Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

সুরক্ষা আইন স্বামীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অস্ত্র হতে পারে না: সুপ্রিম কোর্ট

সুরক্ষা আইন স্বামীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অস্ত্র হতে পারে না: সুপ্রিম কোর্ট
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হেনস্তার জেরে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অতুল সুভাষের আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড় সারা দেশ। মহিলা সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার নিয়ে ফের উদ্বেগের কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মহিলাদের সুরক্ষার জন্য আইনকে কখনই হেনস্তা, ভয় দেখানো বা স্বামীর থেকে টাকা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, প্রাক্তন স্ত্রী যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই হল খোরপোষের উদ্দেশ্য। স্বামীর সমান আর্থিক সঙ্গতির জন্য কখনই খোরপোষকে ব্যবহার করা উচিত নয়। কোনও ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাক্তন স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 
Advertisement
এরই মধ্যে অতুলের মতো আরও এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা দায়ের করে খোরপোষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা অলোক মিত্তল নামে ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, মানসী আগরওয়াল নামে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। মানসী নিজেও একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। কিন্তু অত্যাচারের ভুয়ো অভিযোগ তুলে বিয়ের পাঁচ মাসের মধ্যে অলোকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মানসী। খোরপোষ হিসেবে প্রতি মাসে ১.৫ লক্ষ টাকা, এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও একটি বাড়ি দাবি করেন তিনি। অলোকের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের আগে থেকেই তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। তাঁর কিছু হয়ে গেলে মানসী ও তাঁর পরিবার দায়ী থাকবে বলেও ওই পোস্টে লিখেছেন অলোক। 
অতুলের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী নিকিতা প্রতি মাসে ২ লক্ষ টাকা করে খোরপোষের দাবি করেছিলেন। পরে সেই পরিমাণ বেড়ে হয় বার্ষিক তিন কোটি টাকা। আদালতও অতুলের পক্ষে রায় না দেওয়ায় তিনি মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন ও পঙ্কজ মিঠার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, হিন্দুশাস্ত্রে বিয়েকে পবিত্র বন্ধন, পরিবারের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। বিয়েকে ‘বাণিজ্যিক’ কারণে ব্যবহার করা উচিত নয়। আর মহিলাদের মনে রাখা উচিত, তাঁদের কল্যাণের জন্য কড়া আইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বামীদের হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো বা জোর করে টাকা আদায় করার জন্য নয়। একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় এক ব্যক্তিকে প্রাক্তন স্ত্রীর জন্য ১২ কোটি টাকা এককালীন খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। মহিলা দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রাক্তন স্বামীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা। তাই তাঁর মোটা টাকা খোরপোষ প্রাপ্য। এই নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। কোর্ট জানায়, এক্ষেত্রে শুধু স্বামীর সম্পত্তির পরিমাণ কত, শুধু সেটাই বিচার্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা, তাঁর প্রয়োজনীয়তা কতটা ইত্যাদি বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ