Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি মেডিক্যালে ভর্তির আশ্বাস ২০ লক্ষ খোয়ালেন নন্দীগ্রামের ছাত্র

সরকারি মেডিক্যালে ভর্তির আশ্বাস ২০ লক্ষ খোয়ালেন নন্দীগ্রামের ছাত্র
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির আশায় ২০ লক্ষ টাকা খোয়ালেন নন্দীগ্রামে এক মেধাবী ছাত্র। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার র‌্যাঙ্ক হওয়ায় ডাক্তারি পড়াশোনার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন নন্দীগ্রাম থানার বনশ্রী গৌরী গ্রামের ছাত্র সবুজ মণ্ডল। কিন্তু, সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপন দেখে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন ওই মেধাবী পড়ুয়া। নিট পরীক্ষায় যেকোনও র‌্যাঙ্কে এ রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয় বলে বিজ্ঞাপন দেখেন। ডাক্তারি কোর্সে ভর্তির জন্য ৩০ লক্ষ টাকার রফা হয়। ভেরিফিকেশন, কাউন্সেলিং, জয়েনিং সহ ধাপে ধাপে ওই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সেটা বিশ্বাস করেই সবুজ দফায় দফায় ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। অনলাইনে কাউন্সেলিং করানোর নামে চার দফায় ওই টাকা হাতানোর পর অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতারিত ছাত্র এনিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর করেছেন। লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে নথিপত্রও জমা করেছেন। কলকাতার পঞ্চসায়র থানা এলাকার শেখ মন্তাজ আলি নামে একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
জানা গিয়েছে, সবুজ মাধ্যমিকে ৮৬ শতাংশ নম্বর পান। উচ্চ মাধ্যমিকে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৮১ শতাংশ। ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা থেকে ২০২৪ সালে নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু, আশানুরূপ রেজাল্ট হয়নি। তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল ১ লক্ষ ৮৫ হাজার। এই র‌্যাঙ্কে সরকারি মেডিক্যালে ভর্তির সম্ভাবনা নেই। তাই প্যারা মেডিক্যাল কিংবা বিটেক নিয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক এমন সময় তিনি সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপন দেখে উৎসাহিত হন। নিটে যেকোনও র‌্যাঙ্কে সরকারি মেডিক্যালে ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেখেই তাতে দেওয়া নম্বরে যোগযোগ করেন। এরপরই কলকাতায় আসা যাওয়া শুরু হয়।
মোট ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ৫ নভেম্বর চার লক্ষ টাকা দেন। তারপর ৬ নভেম্বর আরও ছ’লক্ষ টাকা দেন। ২০ নভেম্বর একসঙ্গে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অনলাইনে তাঁর নথি ভেরিফিকেশন ও কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। কলেজে জয়েন করার পরই অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু, সেই কাজটা দীর্ঘদিন না হওয়ায় সবুজের মনে  সন্দেহ হয়। বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে এড়ানোর কৌশল নেয় অভিযুক্ত। এরপরই তিনি টাকা ফেরতের দাবিতে থানার দ্বারস্থ হন। সবুজ বলেন, ব্যাঙ্কে লোন করে এবং জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এভাবে প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়ব ভাবতেও পারিনি। এখন ফোন করলে অভিযুক্ত রিসিভ করছে না। মেডিক্যাল কলেজ ভর্তির টোপ দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি সমস্ত টাকা ফেরতের জন্য থানার দ্বারস্থ হয়েছি। এভাবে আর কেউ যাতে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেন সেটাও জরুরি।  অভিযুক্ত শেখ মন্তাজ আলি বলেন, আমরা ২০১৪ সালে অফিস খুলে মেডিক্যাল সহ অন্যান্য কোর্সে ভর্তি বিষয়ে সহযোগিতা করি। নন্দীগ্রামের ওই পড়ুয়ার থেকে আমরা টাকা নিয়েছি। কিন্তু, তাঁকে ভর্তি করানো যায়নি। তাঁকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথাবার্তা এগচ্ছিল। এরমধ্যেই ওই ছাত্র ন্যাশনাল সাইবার রিপোর্টিং পোর্টালে(এনসিআরপি) অভিযোগ করেন। এর ফলে আমাদের সবকটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যায়। আমরা এখনও টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আগ্রহী। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ