Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

সরকার বিচার করার কে? সুপ্রিম তোপ, বুলডোজার ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র ভর্ৎসনা

সরকার বিচার করার কে? সুপ্রিম তোপ, বুলডোজার ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র ভর্ৎসনা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অভিযুক্ত অথবা সাজাপ্রাপ্ত হলেই সরকার তার বাড়ি বা সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলতে পারে না। সরকার-প্রশাসন বিচার করার কে? তারা বিচারক নয়। আইন এভাবে হাতে নেওয়ার অর্থ, তারা লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করছে। অপরাধের বিচার করবে বিচারবিভাগ। জুডিশিয়ারি। সরকারকে সেই ক্ষমতা দেশের আইন দেয়নি। ‘বুলডোজার জাস্টিসকে’ এমন কঠোর ভাষাতেই ভর্ৎসনা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নিশানায় অবশ্যই শাসক বিজেপি। কারণ, অপরাধী অথবা নিছক অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলাকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে সুবিচারের রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবণতা কয়েক বছর ধরে চলছে। এই বুলডোজার জাস্টিসের জনক যোগী আদিত্যনাথ। ক্রমেই এই ব্যবস্থাকে কঠোর শাসনপ্রক্রিয়ার সমার্থক হিসেবে তকমা দেওয়ার একটি তাড়নাও লক্ষ করা গিয়েছে। আর তাই যোগী মডেল অনুকরণ করে মধ্যপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র—বিজেপি শাসিত প্রতিটি রাজ্য সরকারই শাসন ব্যবস্থায় এনেছে বুলডোজার নীতি। গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি, ঘর, দোকান। আর যোগীর নতুন পরিচয়? বুলডোজার বাবা। 
Advertisement
জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ সহ আরও একঝাঁক আবেদনের ভিত্তিতে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রীতিমতো খড়্গহস্ত হয়েছে ডাবল ইঞ্জিন বহু রাজ্যের উপর। তারা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, এটা কোনও বিচারব্যবস্থাই নয়। এই পর্যায়ে আসার আগে অনেকগুলি স্তর পেরিয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ নোটিস দেওয়া, জরিমানা, মামলা এবং তারপর কাঠামো অবৈধ প্রমাণিত হলে, সেটি চিহ্নিত করা। সব পদ্ধতি ব্যর্থ হলে বুলডোজারের ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু তার মানে, সেটাও রাতারাতি গৃহহীন করে দেওয়ার বিনিময়ে নয়। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি জানিয়েছে, সংবিধান কি এভাবে বিচারের অধিকার দিয়েছে? শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনা, প্রশাসন অর্থাৎ সরকার কাউকে দোষী ঘোষণা করতেই পারে না। সেই অধিকার মৌলিকভাবে ন্যস্ত একমাত্র বিচার বিভাগের উপর। বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন বুধবার বলেছেন, লক্ষ করা যাচ্ছে, একদিকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই রকম অন্য সম্পত্তিতে হাতই দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, নিছক বেআইনি কাঠামো বলেই কারও বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এমন নয়! নিশ্চয়ই অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে এই বুলডোজার জাস্টিসের! বেআইনি নির্মাণ ভাঙারও দীর্ঘ ধাপ রয়েছে। তার মানে এই নয় যে, সরকার কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করল, আর হঠাৎ তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হল। এটা হলে বুঝতে হবে, রাজ্যে আইনের শাসন নেই। আইনিভাবে কোনও স্ট্রাকচার ভাঙার নোটিস অনুমোদিত হলেও সময় দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি সতর্ক করেছে সরকারি আধিকারিকদেরও। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, প্রশাসন অথবা পুলিশ যেই হোক, যারাই এই অবৈধভাবে বুলডোজার জাস্টিসের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, দায় নিতে হবে তাদেরও। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁরা বেআইনি কাজ করেছেন, তাহলে তাঁদের ব্যক্তিগত খরচে ওই ভেঙে দেওয়া সম্পত্তি গড়ে দিতে হবে, অথবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ