নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল রোগীর পরিজনদের বিরুদ্ধে। কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য হাসপাতাল কর্মীদেরও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিস।
২০ জুলাই শ্রীরামপুরের প্রভাসনগরের বাসিন্দা বিমলা দেবী শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে শ্রমজীবী হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, বুধবার হাসপাতালের তরফে রোগী ভালো আছে বলে জানানো হয়। আচমকা এদিন সকালে ফোন করে বলা হয়, বিমলা দেবীর শারীরিক অবস্থা খারাপ। এরপর রোগীর পরিবার হাসপাতালে ছুটে এলে রোগীকে আইসিইউতে দেখতে পান। কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকা আইসিইউতে ঢুকে হামলা চালায়। ভাঙচুর করে একাধিক চিকিৎসার সরঞ্জাম। এরপর শ্রীরামপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় এক বিজেপি নেতাও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও গোটা ঘটনাকে দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপ বলেই দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সহ-সম্পাদক গৌতম সরকার বলেন, ‘ভর্তির সময়ই রোগীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক ছিল। রোগীকে অন্যত্র বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। রোগীর পরিবারের অনুমতি নিয়েই তাঁকে এখানে ভর্তি রাখা হয়। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়নি। আইসিউর মতো সংবেদনশীল জায়গায় হামলা চালানোর ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, দলের কেউ এর সঙ্গে যুক্ত নয়। পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে তা সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র