Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সর্বোচ্চ আদালতের গুঁতো, ছয় বছর পর ফের রেলে ইউনিয়ন গঠনের নির্বাচন

সর্বোচ্চ আদালতের গুঁতো, ছয় বছর পর ফের রেলে ইউনিয়ন গঠনের নির্বাচন
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদি জমানায় দেশের একাধিক সাংবিধানিক সংস্থার স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনই থেকে মহিলা কমিশন, গেরুয়াকরণের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে কংগ্রেস-বাম-তৃণমূল। তাদের আরও অভিযোগ, বিজেপির শাসনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের উপর বিবিধ ক্ষেত্রে আক্রমণ নেমে এসেছে। কর্মিসংখ্যার নিরিখে ভারতীয় রেল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সরকারি সংস্থা। প্রায় ১০ লক্ষ কর্মী রেলে কর্মরত। অভিযোগ, এই বিশাল সংখ্যক কর্মীর সার্বিক কল্যাণ ও দাবিদাওয়া আদায়ের প্রধান মাধ্যমকেই গত ৬ বছর ধরে কার্যত পঙ্গু করে রেখেছে মোদি সরকার। রেলের সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের অন্তত এমনটাই অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রেল ইউনিয়নের ভোট প্রক্রিয়া সারার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালেই শেষবার ভারতীয় রেলের ১৭টি জোন ও ডিভিশনে নির্বাচন হয়েছিল। তার মেয়াদ ছিল ২০১৯ পর্যন্ত। কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, রেলের সর্বত্র বিজেপি বিরোধী ইউনিয়নগুলির প্রভাব বেশি থাকায় ইউনিয়নের ভোট করানো হচ্ছিল না। অবশেষে সেই সুপ্রিম কোর্টের গুঁতোয় আগামী ৪, ৫ ও ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় রেল ইউনিয়নের ভোট হতে চলেছে।
Advertisement
২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা মেট্রোকে ভারতীয় রেলের অধীনে পৃথক জোন হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের পর এবারই মেট্রোর কর্মীরা নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইউনিয়ন গঠনে ভোট দেবেন। সেই সূত্রে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি মেট্রো রেলের আসন্ন ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। শনিবার ছ’টি বিধানসভা উপ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল প্রভাবিত মেট্রো রেলওয়ে প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ইতিমধ্যে জোরজার প্রচার শুরু করে দিয়েছে। সংগঠনের সহ- সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত রবিবার বলেন, ‘মেট্রো কর্মীদের প্রতি গত ১১ বছর চরম বঞ্চনা হয়েছে। মেট্রো ভবনের তরফে কর্মী বিরোধী নানা নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়নের নেতারা প্রতিবাদ করেননি। আমরা মেট্রোর সর্বস্তরের কর্মীর উদ্দেশে এই অবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ মেট্রোয় কর্মীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ইঞ্জিন চিহ্নে ভোট চাইছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, গত এক বছরে মেট্রোর বিভিন্ন রুটে অবাস্তব একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে কর্মী মহলে ক্ষোভের পাহাড় জমেছে। শুধু তাই নয়, মেট্রো ভবনের কর্তাদের একাংশের সঙ্গে বিজেপি নেতা-নেত্রীদের সখ্যের ঘটনা সামনে এসেছে। এই আবহে আসন্ন ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 
সম্পর্কিত সংবাদ