সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বাঁ হাতে কপিল মুনির অনেকগুলি ছবি, গঙ্গাসাগরের ইতিহাস নিয়ে লেখা বই। ডান হাতে সেই ছবি ও বই একটি করে ধরে উঁচিয়ে রাখা। আধো হিন্দিতে জলযানের মধ্যে লাগাতার চিৎকার। ১৩ বছরের নাবালকটি বই বিক্রি করছে। পুণ্যার্থীরা ছবি ও বই কিনছেন। বিক্রি খারাপ হচ্ছে না। অন্য আর একটি নাবালক ভেসেলে বিক্রি করছে পাখির খাবার। এই দু’জন শুধু নয়, আরও কয়েকজন বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতে উঠেছে ভেসেলে। অন্যসময় কোনদিনই তাদের লট নম্বর আট থেকে কচুবেড়িয়া যাওয়ার ভেসেলে জিনিস বিক্রি করতে দেখা যায়নি। কেবল গঙ্গাসাগর মেলার ক’দিন এরা এসেছে দু’পয়সা রোজগার করতে। এরা প্রত্যেকেই স্কুল ছাত্র।
Advertisement
গঙ্গাসাগর মেলার জন্য এই এলাকার সব স্কুল প্রায় এক সপ্তাহ ছুটি দিয়েছে। ছুটির ফাঁকে বছরের হাতখরচ জোগাড় করতে পড়ুয়ারা মেলার ক’দিন ব্যবসা করে। লট নম্বর আট, নামখানা, কচুবেড়িয়া ও গঙ্গাসাগরের পাশাপাশি মুড়িগঙ্গা নদীর ভেসেলে এখন বহু ছাত্রকে বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এরা কাকদ্বীপ, নামখানা ও সাগর এলাকার বাসিন্দা। সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্ররাই মূলত এই অস্থায়ী ব্যবসায় নেমেছে। তারা জানিয়েছে, গত বছরও মেলার সময় ব্যবসা করেছিল। এক একজন প্রায় তিন হাজার টাকা করে লাভও করেছিল। এই টাকায় হাতখরচ চালায়। এ বছর আরও বেশি লাভের আশা নিয়ে এসেছে। এছাড়াও সাগর মহা বিদ্যালয়ের কয়েকজন পড়ুয়া মেলা প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করছেন। মেলা প্রাঙ্গণে পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে প্লাস্টিক নিয়ে দেওয়া হচ্ছে জুটের ব্যাগ বা পচনশীল দ্রব্যের ব্যাগ। জিবিডি’এর পক্ষ থেকে এই কাজ করার জন্য তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। মজুরি হিসেবে দিনে ৫০০ টাকা পাবে। বহু ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন সংস্থার হয়েও স্বেচ্ছাসেবকের কাজও করছে।



