গুপ্তচর বৃত্তি আজকের নয়। বহুকাল থেকেই তা চলে আসছে। প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন সাহিত্য ও ঐতিহাসিক বিবরণীতে এই প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। এমনই একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘রাজা বা শাসনকর্তা অবশ্যই নিজদেশে ও তাঁর শত্রুদেশে গুপ্তচরের মাধ্যমে খবরাখবর সংগ্রহ করবেন।’ ওই সময় বলা হতো, গুপ্তচর ব্যবস্থা হল রাজার চোখ এবং কান। কারণ গুপ্তচরদের মাধ্যমেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের খবর, কোথাও রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন রাজা। প্রাচীনকালে গুপ্তচরদের ‘গূঢ়পুরুষ’ বলা হতো। প্রাচীন ভারতে মৌর্যযুগে, বিশেষ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের আমলে গুপ্তচর ব্যবস্থা খুবই সক্রিয় ছিল। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র ও বিভিন্ন গ্রিক লেখকদের রচনা থেকে এই সময়পর্বের গুপ্তচর প্রথা সম্পর্কে জানা যায়। মৌর্যযুগে প্রধানত দুই ধরনের গুপ্তচর ছিল ‘সমস্থা’ ও ‘সঞ্চরা’। নির্দিষ্ট স্থান থেকে খবর সংগ্রহকারীদের বলা হল ‘সমস্থা’। আর নানা স্থানে বিচরণের মাধ্যমে খবর সংগ্রাহকদের বলা হত ‘সঞ্চরা’। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের গুপ্তচরের কথা জানা যায়—কাপটিকা, উদস্থিত, গৃহপতিকা, বণিক (বৈদেহক), তপস্বী। অর্থাৎ শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ব্যক্তি, গৃহস্থ, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার লোককে এই কাজে লাগানো হতো। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নজর রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এছাড়াও সত্রী, তীক্ষ্ণ, রসদ ও পরিব্রাজিকা নামেও গুপ্তচরের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভিন্ন ভিন্ন দলের কাজ ও বৈশিষ্ট্য ছিল আলাদা আলাদা। উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্য তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণও দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এই সব গুপ্তচররা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের উপর নজরদারি চালাতেন। সাধারণের সঙ্গে মিশে থেকে তাঁরা কাজ করতেন। কোথাও কোনও কিছু সন্দেহজনক দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে রাজার কাছে অভিযোগ জানাতেন।মৌর্য যুগে নারী গুপ্তচরের কথাও অর্থশাস্ত্র থেকে জানা যায়। এই কর্মীরাও বিভিন্ন গোপন খবর রাজার কাছে পৌঁছে দিতেন।



