Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সপ্তাহে দু’দিন খোলা, হাতিঘিষার মঙ্গলসিং জোতে পাঠাগার আছে! জানেনই না গ্রামের বহু লোকজন 

সপ্তাহে দু’দিন খোলা, হাতিঘিষার মঙ্গলসিং জোতে পাঠাগার আছে! জানেনই না গ্রামের বহু লোকজন 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: টিম টিম করে টিকে আছে গ্রামের পাঠাগার। অথচ প্রচারের অভাবে তা জানেনই না অধিকাংশ বাসিন্দা। ফলে দিনদিন পাঠক কমছে। পাঠক ফেরাতে সৌমেন চন্দ্র স্মৃতি পাঠাগারকে নতুনভাবে চালু করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।  
Advertisement
নকশালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিষার মঙ্গলসিং জোতে পাঠাগারটি ২০০১ সালে তৈরি হয়। সাংসদ তহবিল থেকে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে হাতিঘিষা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোনায় পাঠাগারটি শুরু হয়। সেসময় প্রায় স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠাগারটি সীমিত ছিল। সদস্য ছিল প্রায় দেড়শোর উপরে। সেই সময় পাঠকের আনাগোনা হত। ফলে সারাদিন পাঠাগার খোলা থাকত। কিন্তু স্কুলের ভিতর থাকা এই পাঠাগার এখন সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন তালাবন্ধ থাকছে। কোনওদিন ঘণ্টা দু’য়েক খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্কুলে পাঠাগারের সামনে রয়েছে মিড ডে মিলের রান্নাঘর। পড়ুয়াদের শোরগোলের জেরে পাঠক চাইলেও মনোযোগ দিয়ে কিছু পড়তে পারেন না। গত ২০১৬ সাল থেকে এখানে গ্রন্থাগারিক নেই। শিলিগুড়ি থেকে একজন মহিলা কর্মী এসে সপ্তাহে দুদিন পাঠাগার খোলেন। তারপর সারা সপ্তাহ তালাবন্ধ অবস্থায় কাটে। 
স্থানীয়রা বলছেন, পাঠাগারটি হাতিঘিষা থেকে অনেকটা ভিতরে অবস্থিত। স্কুলে যে পাঠাগার রয়েছে সেটা হাতিঘিষার অধিকাংশ বাসিন্দাই জানে না।  স্কুল চলাকালীন অনেকেই পাঠাগারে যেতে পারে না। সঞ্জয় রায় নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ইচ্ছে করলেও পাঠাগার থেকে বই এনে পড়তে পারি না। কারণ অধিকাংশ দিন সেটি বন্ধ থাকে। পাঠাগারের পাশে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রও নেই। যদিও এই পাঠাগারের দায়িত্বে থাকা পূরবী নাগ বলেন, শিলিগুড়ি থেকে এসে সপ্তাহে দু’দিন পাঠাগার খুলি। ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নেই। এদিকে স্থানীয় মারফত জানা গিয়েছে, এই পাঠাগারে আর আগের মতো পাঠক আসেন না। এর ফলে ২০ থেকে ২৫ হাজার বই ধুলোয় ভরে রয়েছে। 
গোটা বিষয় নিয়ে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষাকর্মাধ্যক্ষ বিরাজ সরকার বলেন, হাতিঘিষায় পাঠাগারটির সমস্যা আমার জানা নেই। তবে এই নিয়ে শীঘ্রই বোর্ডমিটিংয়ে আলোচনা করে পাঠাগারটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ব্যবস্থা করব। 
সম্পর্কিত সংবাদ