Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘স্পট’ চিহ্নিত, ৪৫ লক্ষ বর্গফুট রাস্তায় বসানো হবে কংক্রিট ব্লক

বৃষ্টির মরশুম চলে গিয়েছে। এবার শহরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী কংক্রিটের ব্লক বসানোর কাজ পুরোদমে শুরু করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা।

‘স্পট’ চিহ্নিত, ৪৫ লক্ষ বর্গফুট রাস্তায় বসানো হবে কংক্রিট ব্লক
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টির মরশুম চলে গিয়েছে। এবার শহরের বিভিন্ন রাস্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী কংক্রিটের ব্লক বসানোর কাজ পুরোদমে শুরু করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। পুজোর আগে-পরে জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু জায়গায় এই কাজ শুরু হলেও এবার কাজ গতি পাবে। বৃষ্টি ও জল জমার কারণে যেসব রাস্তায় খানাখন্দ বেশি হয় বা জল জমার প্রবণতা রয়েছে, মূলত সেই জায়গাগুলিতে বসানো হচ্ছে কংক্রিটের ব্লক। কারণ, এই রাস্তা সাধারণ বিটুমিন বা পিচের রাস্তার থেকে অনেক বেশি টেকসই। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সড়ক বিভাগ ও বরো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় যে ‘স্পট’ বা ‘স্ট্রেচ’ চিহ্নিত করেছে, সেখানে বসানো হবে কংক্রিট ব্লক। সেই হিসেবে মোট ৪৫ লক্ষ বর্গফুটের বেশি অংশে এই ব্লক বসানো হবে। প্রয়োজন হবে ৩ কোটির বেশি ব্লক। মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় কর্তাদের।

Advertisement

ইতিমধ্যে হাওড়া ব্রিজে ওঠার অ্যাপ্রোচ রোডে এই ধরনের ব্লক বসিয়ে রাস্তার হাল ফেরানো হয়েছে। সায়েন্স সিটির কাছে ই এম বাইপাস থেকে পার্ক সার্কাস কানেক্টরের ১৮০ মিটার অংশে কংক্রিটের ব্লক বসানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৪৫ লক্ষ বর্গফুট বা ৪ লক্ষ ৬২ হাজার বর্গমিটার অংশে কংক্রিট ব্লক বসিয়ে রাস্তা মেরামতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১ লক্ষ ৬০ হাজার বর্গমিটার অংশে কাজ করবে। বাকি কাজের দায়িত্ব সড়ক বিভাগের। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রথমে ঠিক হয়েছিল, একলপ্তে একটাই টেন্ডার করে সব কংক্রিট ব্লক কেনা হবে। ৫০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়। কিন্তু দেখা যায়, একলপ্তে এত ব্লক সরবরাহ করার ক্ষমতা কোনও সংস্থার নেই। তাই সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবার ঠিক হয়েছে, দুই বিভাগ তাদের প্রয়োজন অনুসারে ধাপে ধাপে টেন্ডার ডাকবে। 
সম্প্রতি, পুরসভার মেয়র পরিষদের বৈঠকে শহরের রাস্তার হাল ফেরানোর নির্দেশ দেন ফিরহাদ। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, শহরবাসীকে পর্যাপ্ত পানীয় জলের জোগান দিতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ শেষের পথে। নিকাশি ব্যবস্থার মানোন্নয়নও সন্তোষজনক। এখনও অনেক কাজ চলছে। জঞ্জাল সাফাইয়ের পরিকাঠামোও ঠিকঠাক। শুধু রাস্তা নিয়েই বিস্তর অভিযোগ। তাই চলতি অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার হাল ফেরাতে হবে। 
সড়ক বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘একটু বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে, এরকম বেশ কয়েকটি স্পট আমরা চিহ্নিত করেছি। জল জমলে পিচের রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মেয়রের নির্দেশে এই সমস্ত লোকেশনে আমরা কংক্রিটের ব্লক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কংক্রিট ব্লকের রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করতে গেলেও তেমন ঝামেলা থাকে না। প্রয়োজনে ব্লকগুলি তুলে মাটির নীচের পাইপলাইন সংস্কার বা অন্য কোনও কাজ করা যাবে। কাজ হয়ে গেলে মাটি বা বালি দিয়ে ব্লকগুলি বসিয়ে দিলেই রাস্তা ফিরে আসবে আগের অবস্থায়।’

সম্পর্কিত সংবাদ