সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বলরামপুরের বেড়মা এলাকায় স্পঞ্জ আয়রন কারখানার কালো ধোঁয়ায় নিত্যদিন সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুকুরের জল থেকে মাঠ এবং সব্জিতে কালোস্তর পড়ে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনে তাঁরা কারখানা চালাচ্ছেন। দূষণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যার কথা তাঁদের কেউ জানাননি। বলরামপুরের বেড়মা এলাকায় এই স্পঞ্জ আয়রন কারখানাটি রয়েছে। ওই কারখানার ধোঁয়ায় সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় হরিপদ তন্তুবায় বলেন, সমস্যার শেষ নেই। যে অল্প স্বল্প জমিতে চাষ করি, সেই সব্জিতে কালোস্তর পড়ে যাচ্ছে। বাজারে ওই সব্জি বিক্রি করতে গেলে কেউ নিতে চাইছে না। পুকুরের জলের কেমন অবস্থা, তা এলাকায় এলে বুঝতে পারবেন। গোরু, ছাগল ওই জল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কারখানার ধোঁয়ায় চারিদিক ভরে যাচ্ছে। এরকম করে বাঁচব কী করে? কুয়ো পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হয়। ওই এলাকারই এক গৃহবধূ বলেন, এখানকার মানুষ কতটা সমস্যায় আছে, তা এলাকায় না থাকলে বোঝা যাবে না। স্নান করা থেকে কাপড় শুকাতে দিলেও সমস্যা। জমিতে শাক, সব্জি কোনও কিছু হয় না। ঘরের ভিতরে পর্যন্ত কালি ঢুকে যাচ্ছে। ছেলে মেয়েদের নাকে মুখে ওই কালো ধোঁয়া ঢুকছে। কারখানা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। কারখানা চলুক কিন্তু এই কালো ধোঁয়া থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা হরিহর সিং সর্দার বলেন, জমিতে এমন কালোস্তর পড়ে থাকে যে ধান চাষ পর্যন্ত হয় না। অন্য কোনও চাষ করাও সম্ভব হয় না। আর এক বাসিন্দা ভরত সিং পাতর বলেন, এলাকার ওই আয়রন কারখানা থেকে স্থানীয় বেশ কয়েকটি গ্রাম সমস্যায় পড়েছে। ধানের জমি থেকে পুকুর, সর্বত্র দূষণে জেরবার। ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাই নিজের এলাকায় ফেললেও বাউন্ডারি না থাকায় তা এলাকার অন্যান্যদের জমিতে এসে জমে যাচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কেউ পাত্তা দিতে চায়নি। সকালে খানিকটা কম দূষণ হলেও রাতে বেশি দূষণ ছড়ায়। পরিবেশ দূষণ না করে কারখানা চলুক। এলাকায় কারখানা থাকুক তা আমরাও চাই। কিন্তু, কারখানার জন্য বাকিদের সমস্যা বড় আকারে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বেলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সন্তোষ প্রামাণিক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে এবিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলাম। ওরা সকালবেলা ধোঁয়া একটু কম করে দেয়। সন্ধ্যায় আবার চালায়। এলাকার মানুষ যে সমস্যায় পড়েন, সেকথা ঠিক। গোটা বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের জানাব।
ওই কারখানার ম্যানেজার বলেন, সমস্ত আইন মেনেই কারখানা চালানো হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকার মানুষের সমস্যার বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এরকম অভিযোগ ঠিক নয়।
স্থানীয় বেলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সন্তোষ প্রামাণিক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে এবিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলাম। ওরা সকালবেলা ধোঁয়া একটু কম করে দেয়। সন্ধ্যায় আবার চালায়। এলাকার মানুষ যে সমস্যায় পড়েন, সেকথা ঠিক। গোটা বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের জানাব।
ওই কারখানার ম্যানেজার বলেন, সমস্ত আইন মেনেই কারখানা চালানো হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকার মানুষের সমস্যার বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এরকম অভিযোগ ঠিক নয়।



