Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাফাই কর্মীরা কাজ বন্ধ করায় জঞ্জালের স্তূপে ঢেকেছে চুঁচুড়া

সাফাই কর্মীরা কাজ বন্ধ করায় জঞ্জালের স্তূপে ঢেকেছে চুঁচুড়া
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুরকর্মী ও পুরকর্তাদের বিরোধের জেরে চুঁচুড়া শহরে আটদিন ধরে সাফাইকাজ বন্ধ। ফলে দুর্গন্ধে বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। গোটা শহর যেন ‘নরকে’ পরিণত হয়েছে। জঞ্জালের পচা গন্ধে নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ১ ডিসেম্বর, রবিবার থেকে যাবতীয় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। ৮ ডিসেম্বর রবিবারও পুরসভা ও অস্থায়ী কর্মীদের বিবাদ মেটেনি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে নাগরিকদের। তবে গত শুক্রবার থেকে আন্দোলনকারীরা পুরসভার ট্যাক্স ও মিউটেশন বিভাগে কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু সাফাই ও নিকাশির কর্মীরা এখনও কাজে ফেরেননি। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ট্যাক্স ও মিউটেশন থেকে পুরসভার রোজগার হয়। ভাঁড়ারে টাকা থাকলে তবে তো কর্মীদের ভাতা দেওয়া যাবে। তাই কর্মীরা ওই দুই বিভাগে কাজে ফিরেছেন।
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে একটি অভিযোগকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চুঁচুড়া। জানা গিয়েছে, স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সুডা) কর্মীদের দিয়ে পুরসভা নিকাশি ও সাফাইকাজ করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতে বাধা দিয়েছেন। ওই কর্মীরা আন্দোলনকারীদের হুমকির মুখে কাজে নামতে পারেননি। ফলে, নাগরিকদের সমস্যায় ফেলা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
এদিকে, গত প্রায় আটদিনে জেলা প্রশাসন ও পুরকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করলেও এদিন পর্যন্ত সমাধানের রাস্তা তাঁরা খুঁজে পাননি। যা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভ্যাট উপচে আবর্জনা গ্রাস করছে রাস্তাকে। বাধ্য হয়ে বাড়িতেই আবর্জনা মজুত করতে হচ্ছে। কিন্তু বাসিন্দাদের পক্ষে ঘরে আর আবর্জনা জমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা অমিত রায় বলেন, বাসিন্দাদের সমস্যার কথা আমি জানি। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অনমনীয় মনোভাব খুবই হতাশাজনক। আমরা দফায় দফায় কর্মীদের ভাতার টাকা কিছুটা দিয়েছি। এটা আন্দোলন, নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। 
পুরপ্রধান বলেন, আমরা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে করের টাকা মিটিয়ে দিতে অনুরোধ করেছি। সরকারি দপ্তরগুলিতে প্রচুর টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। ওই টাকা পেলে কর্মীদের ভাতা আরও কিছুটা মিটিয়ে দেওয়া যাবে। 
চুঁচুড়া পুরসভার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা অসীম অধিকারী বলেন, পুরসভার তরফে কর্মীদের বলা হয়েছিল, ট্যাক্স ও মিউটেশন বিভাগে টাকা জমা পড়লে তা দিয়ে ভাতা মেটানো হবে। তাই কর্মীরা সেখানে কাজে যোগ দিয়েছেন। কর্মীদের বাড়িতে ভাত না জুটলে, তাঁরা কাজ করবেন কী করে? নাগরিক সমস্যা দেখার দায় শুধু পুরকর্মীদের কেন হবে? পুরসভাকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ