নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত পুরসভায় কার্যত অচলাবস্থা। চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় ও ভাইস চেয়ারম্যান তাপস দাশগুপ্ত ছাড়া অন্যান্য কাউন্সিলার ও সিআইসিদের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ। ফলে নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ ও প্রশাসনিক কাজের চাপ এসে পড়েছে এই দু’জনের উপর। এই পর্বে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। বারাসতের বিধায়কের স্পষ্ট দাবি, অজুহাত নয়, মানুষের জন্য কাজ চাই। কাজ করুন, নাহলে পদ ছাড়ুন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্বের পদত্যাগের জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভা চাপের মুখে। অশোকনগর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার গ্রেপ্তার হয়েছেন। হাবড়া, মধ্যমগ্রাম এবং বারাসত পুরসভাতেও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে, বারাসতের পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনই নাগরিকদের একাধিক ডেপুটেশন ও অভিযোগ জমা পড়ছে। কোথাও নিকাশি, কোথাও পানীয় জল, কোথাও রাস্তা বা আলোর সমস্যা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলার বা সিআইসিরা নেই। ক্ষুব্ধ নাগরিকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানকেই। বিক্ষোভ সামলানো থেকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস— সব ক্ষেত্রেই সামনে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। ক্রমশ বাড়তে থাকা এই চাপের মাঝে বারাসত পুরসভাকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিজেপি। বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের সাফ বক্তব্য, কাজ করুন, নাহলে পদ ছাড়ুন। কোনো অজুহাতে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। বিধায়কের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, পুরসভার অন্দরে পদত্যাগের জল্পনা চরমে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিআইসিরা পদত্যাগ করবেন। পুরসভার এক শীর্ষ জনপ্রতিনিধির দাবি, বৃহস্পতিবার আমাদের বোর্ড মিটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বাতিল হয়। আগামী সপ্তাহে মঙ্গলবার ফের বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে কাজ করা যাচ্ছে না।