প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে তাপমাত্রার পারদ ক্রমাগত চড়ছে। তবে প্রচণ্ড গরমেও পর্যটকদের আনাগোনা কমেনি। বাংলা নববর্ষেও বহু পর্যটক আসছেন। এই গরমে ঘুরতে আসা পর্যটকদের পেট ঠান্ডা রাখতে জেলার হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে ও রিসর্টে পান্তা ভাতের বিশেষ থালির আয়োজন করা হচ্ছে। স্পেশাল থালিতে পান্তাভাতের পাশাপাশি ডালের বড়া, শাকভাজা, আমডাল, ইলিশ মাছ ভাজা, চুনো মাছের টক, কাঁচা আম বাটা ও জিলিপি থাকবে।
বৈশাখে অবিরাম অগ্নিবাণে ঝাড়গ্রামের প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে ওঠে। দিনেরবেলা তাপমাত্রা ৪০ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। দুপুরে গরম হাওয়া বইতে থাকে। সন্ধ্যার পর আবহাওয়া মনোরম হয়ে ওঠে। অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামে বর্ষবরণে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। এই সময়ে বিভিন্ন হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টেতে পান্তাভাতের বিশেষ থালির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যটকদের ওয়েলকাম ড্রিঙ্কসে থাকছে আমপোড়া, পুদিনাপাতা ও ঘোলের শরবত। বেশ কিছু হোমস্টেতে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ও বেলপাহাড়ীর হোটেল, লজ ও হোমস্টেতে বর্ষবরণে বাঙালিয়ানার স্বাদ পাওয়া যাবে।
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, নববর্ষ পালনে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। বৈশাখের শুরুতে দুপুরে প্রকৃতি রুদ্ররূপ নিলেও সকাল ও সন্ধেয় আবহাওয়া মনোরম থাকে। এই সময় পান্তাভাতের থালির চাহিদা থাকে। বিশেষ করে জল ঢালা পান্তাভাত, ছাচি পেঁয়াজ, ডালের বড়া, কাঁচা আম থেঁতো, চুনো মাছের টক পাতে দেওয়া হয়। কিছু হোটেল, লজেও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছে।
বেলপাহাড়ীর একটি গেস্ট হাউসের মালিক রাহুল অধিকারী বলেন, গ্রীষ্মকালে এখানে প্রকৃতির ভিন্নরূপ দেখা যায়। গাছে নতুন পাতা ধরে। অরণ্যে মহুল ছাড়াও নানা বুনো ফুলের দেখা মেলে। অরণ্য ও পাহাড়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত অপরূপ। নববর্ষের দিন গ্রামে গ্রামে বাড়িতে আলপনা দেওয়া হয়। তুলসীতলায় বসুধারা পাত্র ঝোলানো হয়। গ্ৰামের মেয়েরা একমাস ধরে বসুধারা ব্রত পালন করেন। পর্যটকরা গ্রামে ঘুরে স্থানীয় বর্ষবরণের সংস্কৃতি উপভোগ করেন। কাঁকড়াঝোরের এক হোমস্টে মালিক বলেন, পর্যটকদের জন্য পান্তা ভাত থালির আয়োজন করা হয়েছে। নববর্ষে বাড়তি ইলিশ মাছ, কালো কলাইয়ের ডাল, আমের চাটনি, কাঁচা তেতুঁলের টক, কাঁচা আম থেঁতো, ঘোলের শরবত থাকছে।
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির হেরিটেজ হোটেলের কর্ণধার বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমাদের এখানেও বিশেষ থালির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জঙ্গলমহলের নিজস্ব খাবারের মেনুও থাকছে। লোকসংস্কৃতি গবেষক মধুপ দে বলেন, জঙ্গলমহলে নববর্ষের প্রথমদিন থেকে একমাস ধরে বসুধারা ব্রত পালন করা হয়। ঘরের তুলসীতলায় বসুধারা পাত্র ঝোলানো হয়। মেয়েরা ব্রত পালন করে পাত্রে জল ঢালেন। ছিদ্র দিয়ে সেই জল তুলসী গাছে পড়ে। গ্রীষ্মকালে পান্তাভাত খাওয়া লোকজ সংস্কৃতির অঙ্গ।