নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘায় অবস্থিত ১৪টি স্নানঘাটে প্রচণ্ড ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই এনডিআরএফ টিম প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। আগামী ২৬ এপ্রিল থেকেই এনডিআরএফ দীঘায় পৌঁছে যাবে। ৩০ এপ্রিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ওই টিম দীঘা ছাড়বে। প্রতিটি ঘাটে তিনজন করে নুলিয়া, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার এবং পুলিস মোতায়েন করা হবে। স্নানঘাটের অবস্থা খতিয়ে দেখতে সোমবার বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ সিংহ দীঘায় আসেন। ওল্ড দীঘা থেকে নিউ দীঘার বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি, ৩০ তারিখে বিভিন্ন স্নানঘাটে কীরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে, তা নিয়ে মিটিং সারেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায়, জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপন অফিসার মৃত্যুঞ্জয় হালদার প্রমুখ। মঙ্গলবার তিনি দীঘা ছাড়েন।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন ঘিরে গোটা রাজ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। মেগা ইভেন্টের কাউন্টডাউন চলছে। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী এবং সচিব দীঘায় এসে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন। এর আগে বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দীঘায় এসে প্রস্তুতি পর্ব খতিয়ে দেখে গিয়েছেন। তাঁকে ওই মেগা ইভেন্টের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেকর্ড জনসমাগমে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য প্রত্যেকটি ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে। সাতটি স্পিডবোটে নজরদারি চালানো হবে। প্রতিটি ঘাটে এনডিআরএফ টিমও বহাল থাকবে। তারা উদ্ধার কাজের দিকটি দেখবে।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগে নীল-সাদা রঙে সেজে উঠেছে দীঘা। একেবারে দীঘা ওয়েলকাম গেট থেকে উদয়পুর পর্যন্ত ডিভাইডার, গার্ডওয়াল, পিলার, ইলেক্ট্রিক পোস্ট সহ সর্বত্র নীল-সাদা। পুরনো জগন্নাথ মন্দিরকে মাসির বাড়ি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার ঘাটটিকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। একইভাবে নতুন জগন্নাথ মন্দিরের সোজাসুজি সমুদ্র বরাবর মাইতি ঘাটকেও নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। দু’টি ঘাট নীল-সাদা রঙে সেজে উঠেছে। ওল্ড দীঘার ২নম্বর বিশ্ববাংলা ঘাটেও নীল-সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে।
মন্দির উদ্বোধনের দিন ভিআইপিদের অনেকেই সমুদ্রে স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন। ঘাটে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়াও, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ব্যাপক নজরদারি থাকবে। বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের প্রধান সচিব সেসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সেরে নিয়েছেন। মঙ্গলবারই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনডিআরএফ চেয়ে রিক্যুইজিশন নবান্নে পৌঁছে গিয়েছে। ২৬ তারিখ ওই টিম দীঘায় পৌঁছে যাবে বলে জানা গিয়েছে। মন্দির উদ্বোধনের দিন দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়কের উপর বিশাল যানবাহনের চাপ থাকবে। একই দিনে কাঁথিতে বিজেপির পক্ষ থেকে আলাদা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। তাই ওইদিনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জেলা পুলিসের কাছে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে হেঁড়িয়া ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে জাতীয় সড়ক সঙ্কীর্ণ। সেখানে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। পুলিসের কাছে এটিও মাথাব্যথার বিষয়। মেগা ইভেন্ট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্য জেলা থেকেও বাহিনী আনা হবে।