নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বারুইপুরে নাবালিকার উপর পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় শুধু রাজ্য নয়, গোটা দেশ শিউরে উঠেছে। নৃশংস ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে অভিভাবকদের। সেই উদ্বেগ থেকেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হাওড়ার আন্দুলের মহিয়াড়ি রানিবালা কুণ্ডু চৌধুরী প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে খুদে ছাত্রীদের সচেতনতা ও আত্মরক্ষার প্রাথমিক পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষিকারা। গল্পের ছলে শেখানো হচ্ছে, বিপদের মুখে কীভাবে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখতে হবে।
চিৎকার করা, দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়া এবং আশপাশে থাকা কোনো বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কের সাহায্য চাওয়া— তিনটি বিষয়ই এই বিশেষ ক্লাসের মূল পাঠ। বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষিকা প্রতিদিন প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একটি করে সচেতনতামূলক ক্লাস নিচ্ছেন। সেখানে ছাত্রীদের বোঝানো হচ্ছে, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি যদি লজেন্স, চকোলেট, খেলনা বা অন্য কোনো উপহারের লোভ দেখিয়ে কোথাও নিয়ে যেতে চায়, তাহলে কখনও তার সঙ্গে যাবে না। অপরিচিত ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কেউ জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভয় না পেয়ে জোরে চিৎকার করতে হবে, সুযোগ পেলে দ্রুত সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে হবে অথবা সামনে থাকা কোনো বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাতে হবে। সম্প্রতি এই বিশেষ ক্লাসের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এক শিক্ষিকাকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় ছোটো ছোটো ছাত্রীদের এসব বিষয় বুঝিয়ে বলতে দেখা গিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সেন জানান, বারুইপুরের ঘটনার পরই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলে প্রায় সাড়ে পাঁচশো ছাত্রী রয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণিতে প্রতিদিন একটি করে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ছোটো থেকেই শিশুদের মধ্যে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। এই প্রাথমিক শিক্ষাই ভবিষ্যতে বড়ো বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। আগামী দিনে অন্যান্য বালিকা বিদ্যালয়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক ক্লাস চালু হবে বলে তিনি আশাবাদী। স্কুলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি অভিভাবকদের বড়ো অংশ। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, বারুইপুরের ঘটনার পর মেয়েকে একা রাস্তায় ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। এমন সময় স্কুল যদি বাবা-মায়ের মতো প্রতিদিন বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে সন্তানদের সচেতনতার পাঠ দেয়, তার চেয়ে বড়ো আশ্বাস কিছুই হতে পারে না।