


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পদচ্যূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। মঙ্গলবার লোকসভায় শুরু হয়ে গেল আলোচনা। চলবে ১০ ঘণ্টা। যেখানে বিরোধীরা বলছেন, ওম বিড়লা কতটা পক্ষপাতদুষ্ট। অন্যদিকে সরকার পক্ষের সওয়াল, তিনি নিরপেক্ষ।
১৯৫৪ সালে যখন তৎকালীন স্পিকার জি ভি মভলঙ্কারকে পদচ্যূত করার আলোচনায় নেহরু বলেছিলেন, আলোচনায় বিরোধীদেরই বেশি করে বলার সুযোগ দেওয়া উচিত। সেই প্রসঙ্গ তোলার পাশাপাশি কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে গিয়ে রিজিজু বলেন, রাহুল গান্ধীকে বিরোধী দলনেতা না করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে করতে পারত কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী তো সিরিয়াস নন। যা শুনে সভায় উপস্থিত প্রিয়াঙ্কায় বললেন, শুনেই ভালো লাগছে যে, গত ১২ বছর ধরে যে নেহরুর নামে বিজেপি বদনাম করে এসেছে, আজ তাঁর নামেই সুনাম করতে হচ্ছে। শুনে রাখুন, আর যাই হোক রাহুল গান্ধী কারও কাছে মাথা নত করেন না। কাউকে ভয় পান না। সত্যি কথা বলেন। তাই তিনি প্রকৃত বিরোধী দলনেতা। ঝাঁঝালো বক্তব্যে মহুয়া বলেন, এই স্পিকারই সংসদের ইতিহাসে প্রথমবার একসঙ্গে শতাধিক সাংসদকে সাসপেন্ড করেছেন। গত সাত বছর হল কোনো ডেপুটি স্পিকার নেই। বিরোধীদের বাইরে বের করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়েছেন। ফলে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট। বিরোধী দলনেতা ( রাহুল গান্ধী)কে যেভাবে বলতে বাধা দিয়েছেন, তা ঠিক নয়।
এদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘জালিয়াতি’ করেছেন অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু করল বিরোধীরা।১০ পাতার একটি চিঠি তৈরি করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের উদ্যোগে সাংসদদের সই সংগ্রহ শুরু করে দিল তৃণমূল। অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। তাই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে ওই চিঠি জমা দেবে বিরোধীরা। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায় রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার ইমপিচমেন্টের ওই চিঠি জমা দেওয়া হবে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট এর আগে কোনোদিন হয়নি। এর আগে টি এন সেশন এবং নবীন চাওলার ইমপিচমেন্টের কথা ভেবেছিল বিরোধীরা। তবে সেটি রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই ছিল। চিঠি লেখা বা সই সংগ্রহ পর্ব পর্যন্ত পৌঁছয়নি। ফলে সেই হিসাবে তৃণমূলের এই উদ্যোগ নজিরবিহীন। মঙ্গলবার সকালে বিরোধীদের স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে তৃণমূলের লোকসভার উপদলনেত্রী শতাব্দী রায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ওই ইমপিচমেন্টের চিঠির খসড়া দেখানো হয়। যা দেখে বিরোধীরা সন্তুষ্ট বলেই জানা গিয়েছে। সেই মতো শুরু হয়ে গিয়েছে সই সংগ্রহ। লোকসভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।