


নয়াদিল্লি: বিদেশি সাইবার প্রতারকদের নজরে ভারত! আরও স্পষ্ট করে বললে আম ভারতীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এই সাইবার প্রতারণার একটা বড় অংশ চলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) অনলাইন প্রতারণায় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন ভারতীয়রা। অর্থাৎ, মাসে হাজার কোটিরও বেশি। আর এই টাকা লোপাটের নেপথ্যে রয়েছে মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ডের একাধিক চক্র। এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন কাজের লোভে প্রতারকদের ফাঁদে পড়া ভারতীয়দের এই সমস্ত চক্রগুলিতে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, দেশ যাই হোক না কেন, অধিকাংশ প্রতারণা চক্রগুলির মাথায় বসে রয়েছে চীনের অপারেটররা। বিভিন্ন প্রতারণার তদন্ত থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই চীনা অপারেটরদের নজরদারিতে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মোড়া এলাকায় বসে প্রতারণার ফাঁদ পাতে কর্মীরা। এই কর্মীদের অধিকাংশই বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হয়ে পৌঁছয় এই প্রতারণা চক্রের আস্তানায়। প্রতারকদের হাতে ‘বন্দি’দের তালিকায় ভারত ছাড়াও আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দারা রয়েছেন। একবার সাইবার চক্রের আস্তানায় গিয়ে পড়ার পর ‘পান্ডা’দের নির্দেশমতো কাজ করা ছাড়া আরও কোনও উপায় থাকে না তাঁদের। আর এই চক্রের থাবার প্রতি মাসে সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে গড়ে প্রায় হাজার কোটি খোয়া যায় ভারতবাসীর। কোন কোন ক্ষেত্রে হয় প্রতারণাগুলি? তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, শেয়ার ও স্টক ট্রেডিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, বিনিয়োগ ও অনলাইনে বিভিন্ন কাজের টোপে পা দিয়েই মূলত টাকা উধাও হয় ভারতীয়দের।
আরও জানা গিয়েছে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কম্বোডিয়া, দুবাই, চীন সহ একাধিক দেশে মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কিছু চক্র। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে ৫৯, তামিলনাড়ুতে ৫১, জম্মু ও কাশ্মীরে ৪৬, উত্তরপ্রদেশে ৪১ ও দিল্লিতে ৩৮ জন এজেন্টের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তারা মূলত লাওস, মায়ানমার ও কম্বোডিয়ায় মানব পাচারের কাজে যুক্ত। কোন রুটে চলে পাচার? প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চোখধাঁধানো বেতনে কাজের টোপ দিয়ে ফাঁদ পাতে এজেন্টরা। সেই ফাঁদে যাঁরা পা দেন, তাঁরা কোন রাজ্যের বাসিন্দা, সেই অনুযায়ী ঠিক করা হয় রুট। বাংলা থেকে এই ফাঁদে পা দেওয়া মানুষজনকে প্রথমে ভিয়েতনাম এবং সেখান থেকে সড়কপথে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, জয়পুর থেকে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম-ব্যাংকক, তামিলনাড়ু থেকে কম্বোডিয়া, মহারাষ্ট্র থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া, কেরল থেকে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর, দিল্লি থেকে ব্যাংকক ও কম্বোডিয়ায় মানুষ পাচারের তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র কম্বোডিয়ার ৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় এই ধরনের প্রতারণা চক্রগুলির হাতে ‘বন্দি’ বলে খবর। বিষয়গুলি নিয়ে ইতিমধ্যে কম্বোডিয়ার উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। সেখানে এই প্রতারণা চক্রগুলির আস্তানার ঠিকানা জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ ও আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।