Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বারুদ ঘর, আইলা বাঁধ, ঘোড়ামারা দ্বীপে ‘শ্যুটিং স্পট’, অনামী পর্যটন কেন্দ্রের কৌলিন্য ফেরাতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন

বারুদ ঘর, আইলা বাঁধ, ঘোড়ামারা দ্বীপে ‘শ্যুটিং স্পট’, অনামী পর্যটন কেন্দ্রের কৌলিন্য ফেরাতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় বারুদ নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল না। হুগলি নদী দিয়ে আসত যে জাহাজগুলি তাদের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৮০৩ সালে নির্দেশিকা জারি করে। জানায়, বারুদ রাখার জন্য বজবজের মায়াপুরের কাছে জায়গা তৈরি হয়েছে। সেখানে বারুদ রেখে তবে ঢোকো কলকাতায়। ফেরার সময় আবার নিয়ে যাবে। সেই স্থাপত্যটি ঐতিহাসিক। এখন ‘বারুদ ঘর’ বলে লোকে ডাকে। এই জায়গাটি কিছু পর্যটক চেনেন। বিক্ষিপ্তভাবে আসা যাওয়াও আছে। এবার জায়গাটিকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। এটিকে শ্যুটিং স্পট হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে। বারুদ ঘর শুধু নয় জেলার ৪৭টি স্থান শ্যুটিংয়ের জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে জেলা। সে তথ্য তারা নবান্নেও জানিয়েছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, এক মাস আগে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর থেকেই জেলাওয়াড়ি নতুন শ্যুটিং স্পটের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে কাজ করতে গিয়ে বারুদ ঘর ইত্যাদি জায়গাগুলি চিহ্নিত করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসন। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা জঙ্গলের চেনা জায়গার বাইরেও যে বহু নতুন জায়গা আকর্ষণীয় তা সরকার তুলে ধরতে চাইছে বলে অনেকের অনুমান।
এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্রমশ চারিদিক ভাঙছে। নদীর গ্রাসে ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে জমি-বাড়ি। ঘোড়ামারা দ্বীপ যে কতদিন টিঁকে থাকবে সেটা এখন বড় প্রশ্ন। কিন্তু এই ছোট দ্বীপটি ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এটিও শ্যুটিং স্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জেলার এই জায়গাগুলি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। ঐতিহাসিক এবং সামাজিক গুরুত্বের কারণে অনেকে দেখতে আসেন। জেলা প্রশাসন এই জায়গাগুলি সিনেমার শ্যুটিংয়ের জন্যও উপযুক্ত বলে নবান্নে জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, চিরাচরিত দ্রষ্টব্য স্থানগুলির বাইরে কিছু জায়গা তুলে ধরা হয়েছে যা জাতীয়স্তরে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে ভবিষ্যতে। বজবজের বারুদঘর, ঘোড়ামারা দ্বীপ ছাড়াও মাতলা নদীর তীরে কুলতলির কৈখালী খেয়াঘাট ক্রমশ নয়া পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। এছাড়া কাকদ্বীপের আইলা বাঁধ, নামখানার ঈশ্বরীপুর নদীবাঁধ, পাথরপ্রতিমার ভগবতপুর কুমির প্রকল্প, লোথিয়ান দ্বীপ ইত্যাদি বহু শহুরে ও গ্রামীণ এলাকা রয়েছে। ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে একটি নৌকা করেই পৌঁছে যায় গঙ্গাসাগর। সেখানে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দেওয়ার আকর্ষণ। অন্যদিকে বজবজের বারুদ ঘর থেকে সড়ক পথে পৌঁছে যাওয়া যায় বাওয়ালি রাজবাড়ি ও বাওয়ালি ফার্ম হাউজ। এ দু’টিই জেলার শ্যুটিং স্পটের তালিকায় রয়েছে। এই দু’জায়গার মধ্যে দূরত্ব খুবই কম। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, এর ফলে লোকেশন পাল্টাতে সিনেমার ইউনিটকে এক জায়গা থেকে বেশি দূরে যেতে হবে না। কাছেপিঠে থাকা এরকম একাধিক মনোরম পরিবেশে শ্যুটিং করতে পারবেন ছবি নির্মাতারা। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই এই উদ্যোগ।  বারুদ ঘর। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ