নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বয়স ভাঁড়ানো দুই ক্রিকেটারকে পুরস্কৃত করা নিয়ে সিএবি’কে তোপ দেগেছেন বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, ‘কয়েকদিন আগে সিএবি’র বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে অনেককেই পুরস্কৃত করা হয়েছে। কিন্তু, বিসিসিআই এবং সিএবি যে ক্রিকেটারদের সাসপেন্ড করেছে, তারাও পুরস্কার পেল! সিএবি সচিব বাবলু কোলে বলেছেন, আধার কার্ডের মাধ্যমে বয়স যাচাই করতে গিয়ে প্রায় পাঁচশোর বেশি অসঙ্গতি সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে ৬০ জনকে। তাই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে সিএবি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেন? আগে কেন তদন্ত করানো হয়নি? ক্রিকেটারদের প্রদেয় নকল শংসাপত্র যারা ইস্যু করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সিএবি? এটি খুবই গুরুতর বিষয়। সরকারের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা উচিত।’
বয়স ভাঁড়ানো ইস্যু অবশ্য নতুন নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে। তবে এবার তীব্রতা অনেক বেশি। কারণ, বিসিসিআইয়ের গাইড লাইন মেনে বয়স যাচাইয়ে অনেক কড়াকড়ি হয়েছে। ভুরি ভুরি গরমিলের তথ্য সামনে এসেছে। এতদিন ব্যাপারটি ছাই চাপা আগুনের মতোই জ্বলছিল। হঠাৎ করে বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি সিএবি’কে তোপ দাগায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘গত মরশুমের পারফরম্যান্সের নিরিখেই অভিযুক্ত দুই ক্রিকেটারকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অনেক আগে থেকেই বয়স ভাঁড়ানো ঠেকাতে সিএবি তৎপর। এই ব্যাপারটি প্রথম চিহ্নিত করি আমরাই। অন্যায়ের সঙ্গে সিএবি কখনওই আপোষ করেনি, করবেও না। তাছাড়া যেসব সংস্থা জন্মের শংসাপত্র ইস্যু করে, সেখানে সিএবি’র হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই। আমরা গত বছর থেকে বয়স ভাঁড়ানো ঠেকাতে আধার ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করেছি। তাতেই অনেক ভুল তথ্য সামনে এসেছে। প্রয়োজন মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’ ২৪ সেপ্টেম্বর সিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা। সচিব, যুগ্ম-সচিব এবং অ্যাপেক্স কমিটির একটি পদে নির্বাচন। ভোটাভুটি হবে কি না, তা সময় বলবে। তবে রাজ্যের শাসক দলের একাধিক বিধায়ক বিভন্ন ক্লাব থেকে সিএবি’তে প্রতিনিধিত্ব করতে চাইছেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী কিছুটা চাপে। সেই কারণেই কি বিভিন্ন ইস্যু সামনে তুলে আনা হচ্ছে? এটা কি সৌরভ গাঙ্গুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রয়াস? জবাবে মহারাজ বলেন, ‘এভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে কেউ আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারবে না।’