নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপির কাছে ভোটে হেরে এখন কংগ্রেসের কাছাকাছি তৃণমূল। সংসদ হোক বা সড়ক, কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজেপি বিরোধী যেকোনো কর্মসূচিতে যোগ দিতে দ্বিধাহীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাই দিল্লিতে এসে সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাংলোয় গিয়ে সম্প্রতি বৈঠকই করেছেন। তারপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে। এসএমএসে। রাজনৈতিক বিশ্বস্ত সূত্রেই এই খবর জানা গিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির সরকার বিরোধী জনরোষের মঞ্চে হাজির হতে গত রবিবারই দিল্লি আসার টিকিট কেটেছিলেন মমতা। সোমবার যন্তরমন্তরের ওই মঞ্চে একসঙ্গে হাজির হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর— মমতা, অখিলেশ যাদব এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। কিন্তু শনিবারই সরকারের সঙ্গে আলোচনা আর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় ককরোচদের বিক্ষোভ শেষ হয়েছে। তাই আর দিল্লি আসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এবার নানাবিধ ইস্যুতে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করেছে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। মোদি বিরোধী জোট অটুট রাখা তো বটেই, আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির বিষয়েও সোনিয়া-মমতা এসএমএসে কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হচ্ছে ফোনালাপও। সংসদে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঘরে সংসদের স্ট্র্যাটেজি বৈঠকেও নিয়মিত যোগ দিচ্ছে তৃণমূল। সোমবার গিয়েছিলেন সৌগত রায়, সাগরিকা ঘোষ, মহুয়া মৈত্র এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। প্রশ্ন ফাঁস রুখতে সরকারের আনা বিলের আলোচনার পর পাশ হয়ে গেলে বিরোধীরা সরব হবে প্রণামি চুরি ইস্যুতে। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘সংসদের অন্দর, চত্বর আর সড়ক, তিন জায়গাতেই হবে সরকার বিরোধী আন্দোলন। ছাত্ররা যেভাবে সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তার কৃতিত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। ওটা ওদের প্রাপ্য। তবে আমরাও সরকারকে কোণঠাসা করতে ছাড়ব না।’
এদিকে, সোমবার স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও আচমকাই তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির দুই সদস্য ডেরেক এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তৈরি হয়েছিলেন ছাত্র-যুবর ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগের জবাব চাইবেন। কিন্তু বৈঠকই বাতিল হয়ে যাওয়ায় তা হল না। যদিও যেদিনই ওই বৈঠক হবে, সেদিনই মন্ত্রকের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের চেপে ধরবে বিরোধীরা। -ফাইল চিত্র