Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬

সফদরজং হাসপাতালেই থাকবেন সোনাম, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের

সোনাম ওয়াংচুকের চিকিৎসা সফদরজং হাসপাতালে চলবে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ। চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিস্তারিত জানুন।

সফদরজং হাসপাতালেই থাকবেন সোনাম, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টের
  • ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:২৭
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই: সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের চিকিৎসা আপাতত সফদরজং হাসপাতালেই চলবে। আজ তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমোর করা এক আবেদন যেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোনামকে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছিল তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই এমনটাই স্পষ্ট করে দিল আদালত।

Advertisement

সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে না। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি সোনামকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি মিনি পুষ্করণার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, দীর্ঘদিন অনশন চলায় ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি স্বেচ্ছায় হাসপাতালে ভর্তি হননি। সেই কারণে পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে খামখেয়ালি বা বেআইনি বলা যায় না। আদালতের মতে, তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুনানিতে হাসপাতালের এক চিকিৎসক আদালতকে জানান, চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ দল তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে। তাই জোর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে  এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই, এই বলে মন্তব্য করে আদালত। আদালত আরও জানায়, গীতাঞ্জলি আংমো সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। পাশাপাশি সোনাম ওয়াংচুকের চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাসপাতালের মেডিকেল টিমই নেবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির আবেদন করেন গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ, সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য দিচ্ছে না, ফলে হাসপাতালের উপর তাঁদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাঁর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, 'রোগী কোথায় চিকিৎসা করাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁরই থাকা উচিত।' তিনি ওয়াংচুককে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চান।

অন্যদিকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এর বিপক্ষে বলেন, ওয়াংচুককে এই মুহূর্তে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি দেশের রাষ্ট্রপতিও সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৪ জুলাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ