নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাবা নামজাদা চিকিৎসক। ছেলে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে ভর্তি হয়েছে উত্তরপাড়ার একটি সরকারি স্কুলে। সেখানেও বিজ্ঞান শাখায় রয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার ব্যবস্থা। তবে অভিযোগ, নামেই ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, পড়াশোনার বেশিটাই হয় বাংলা মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় সেমেস্টারে বায়োলজিতে দেওয়া হয় বাংলা মাধ্যমের প্রশ্নপত্র। প্রায় ১২ মিনিট পরে তর্জমা করে দেওয়া হলেও তাতে ছিল ভুল। সময়ের মধ্যে সে ৩০ নম্বরের উত্তর লিখতে পারেনি বলে অভিযোগ। ফলে ৭ নম্বর পেয়ে ফেল করেছে ছাত্রটি। বাবাকে নিয়ে সোমবার সংসদ সভাপতির সঙ্গে দেখা করেছিল সেই ছাত্র। সঙ্গে ছিলেন একই স্কুলের আরও তিন ছাত্র এবং অভিভাবকরা। সেই ছাত্ররাও ইংরেজি মাধ্যমের।
বিভিন্ন স্কুল থেকেই দ্বিতীয় সেমেস্টারে পড়ুয়াদের ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আসছে। স্কুলগুলির দাবি, উচ্চ মাধ্যমিকের আগে পরীক্ষার্থীদের ছেঁকে নেওয়ার এই শেষ সুযোগ। তৃতীয় সেমেস্টার হবে ওএমআর ভিত্তিক। তাতে বিষয়ের সম্যক জ্ঞান যাচাই করা সম্ভব নয়। কিন্তু কম্পালসারি ইলেক্টিভের তিনটি বিষয়ে পাশ করলেই তাকে উত্তীর্ণ ধরা হয়। এক্ষেত্রে তা হচ্ছে না কেন? পড়ুয়াদের অভিযোগ, তারা আইটিইএস বিষয়টি নিয়েছিল, যা আসলে বৃত্তিমূলক বিষয়। সেটিকে প্রধান বিষয় করার সুযোগ নেই। স্কুলও প্রথমে এই কথা জানায়নি। বরং কম্পিউটার সায়েন্সের পরিবর্তে এই বিষয়টি নিলেই ভালো, তা বোঝানো হয়েছিল। ফলে আইটিইএসে ৯৫ পেলেও তাতে লাভ হয়নি। একটি বছর থেকেই যেতে হচ্ছে তাকে।
স্কুলের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি রয়েছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের। তাঁদের বক্তব্য, অন্যায্য যুক্তি দিয়ে নম্বর কাটা হয়েছে। নিয়মিত ক্লাসও হয়নি। এমনকী, বিজ্ঞানের শব্দগুলি বাংলায় বুঝতে না পারায় তির্যক মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছে সংসদ। এ প্রসঙ্গে সংসদের এক কর্তার বক্তব্য, আমরা বিজ্ঞান বিষয়ে পঠনপাঠনে উৎসাহ দিচ্ছি। সরকারও তাই চাইছে। ইংরেজি মাধ্যমও চালু করেছে। বেসরকারি স্কুল এবং অন্য বোর্ড থেকে কেউ এলে তাদের এই অভিজ্ঞতা কাম্য নয়। তাই প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র সহ শিক্ষকদের আসতে বলা হয়েছে। ১০ পেলেই তাদের একটি বছর বাঁচতে পারে। যদি কোনও উপায় থাকে, তাহলে স্কুলকে সেই অনুরোধ করা হতে পারে।