সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাকি সরকারি দপ্তরে টনক নড়লেও রামপুরহাট পুরসভা আছে পুরনো অবস্থাতেই। একদিনে এসেই হাজিরা খাতায় ১৫ দিনের সইয়ের পর আড্ডা। তারপর বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা। তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকার সুযোগ নিয়ে সবকারি কর্মীদের একাংশ বছরের পর বছর কোনো কাজ না করেই বেতন তুলছেন। এতদিন এবিষয়ে কোনো বড় প্রতিবাদ না হলেও রাজ্যে পালা বদলের পর এই বেনিয়ম নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি।
সরকারি কর্মীদের অফিস ঢোকা এবং বেরনোর সময় বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলায় জেলায় সেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তাতেই বুধবার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের কর্মীদের একাংশ পুরনো অভ্যাস ঝেড়ে ফেলে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু রামপুরহাট পুরসভাকে দেখা গেল পুরনো অবস্থায়। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসা দূরের কথা, চাকরি পাওয়ার পর থেকে কার্যত একদিনও অফিস করেননি পুরসভার কর্মীদের একাংশ। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে কোনও পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ৫০জন ক্যাজুয়াল কর্মীকে স্থায়ী পদে চাকরি দেওয়া হয়। কেউ মজদুর, পিওন, কারও আবার স্টোরকিপার, ক্লার্ক, হেল্পার পদে নিয়োগ হয়। তাঁদের অধিকাংশই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। কেউ কেউ আবার তৃণমূলের বড় পদে ছিলেন। অভিযোগ, এই কর্মীদের একাংশ নিয়োগ হওয়ার পর একদিনও অফিস করেননি। নেতা হয়ে মজদুরের কাজ করবেন, সেটা আবার হয়! তাই ১৫-২০ দিন অন্তর অফিসে এসে হাজিরা খাতায় একসঙ্গে সই করে আড্ডা মেরে চলে যান। অথচ মাসের শেষে দিব্যি বেতন পেয়ে চলেছেন। এদের কয়েকজন আবার সদ্য অবসরও গ্রহণ করেছেন। পুরকর্মীরা বলেন, এই অনিয়ম এখন আর কেবল অভিযোগের স্তরে নেই, বরং এটি একটি স্বীকৃত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতদিন এদের বিরুদ্ধে বড় কোনও প্রতিবাদ হয়নি। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর এব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। তাঁদের মতে, মজদুর বা হেল্পারের পদে চাকরি পেয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করা এবং নেতার পরিচয়ে অফিসে না আসা অত্যন্ত বেআইনি। মুখ্যমন্ত্রী সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ পাঠালেও পুরসভার কর্মীদের একাংশের মধ্যে হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।
বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা তথা এই পুবসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিস চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে নেতা হওয়ায় কয়েকজন স্থায়ী চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু কাজ করার মানসিকতা নেই। কোনওদিনই অফিসে এসে নাগরিকদের পরিষেবা দেননি। এখন এসব আর চলবে না। যে যে পদের জন্য নিযুক্ত তাঁকে সেই কাজই করতে হবে। মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। এব্যাপারে দল এবং প্রশাসন নজর রাখছে।
পুরকর্মীদের একাংশের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থায়ী কর্মীরা কাজ না করায় পুরসভাকে আলাদা করে অস্থায়ী ও স্যানিটারি কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছে। এরফলে সরকারকে একই কাজের জন্য দু’বার খরচ করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হল, যাঁরা কাজ করছেন না তাঁরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন, অথচ অস্থায়ী কর্মী হিসাবে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা এখনও বেতন পাননি।
এব্যাপারে পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি সৌমেন ভকত বলেন, এই অনিয়মের বদল আনতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করার পাশাপাশি ওই কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু শোনেননি। বায়োমেট্রিক মেশিনও অচল হয়ে পড়ে। এখন সরকার যা নির্দেশ দিয়েছে সেইমতো চলতে হবে। এরপরও নিজেদের শুধরে না নিলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। রামপুরহাট পুরসভা।