সংবাদদাতা, বারুইপুর: পুলিস ক্যাম্পের কাছেই প্রকাশ্যে পিয়ালি নদীর খালপাড়ের মাটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। তারপর তা নম্বর প্লেটহীন লরিতে ভর্তি করে পাচার করা হচ্ছে নস্কর ইটভাটায়। যে ইটভাটাও পুলিস ক্যাম্পের কাছেই। দিনের পর দিন এমনই অভিযোগ উঠছে বারুইপুরের বৃন্দাখালি পঞ্চায়েতের জয়াতলায়। ঘটনা প্রসঙ্গে বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারের অভিযোগ, জয়াতলা পুলিস ক্যাম্পের এক অফিসারের সঙ্গে মাটি কারবারীদের যোগসাজসে এমন হচ্ছে। বিধায়কের দাবি, বারুইপুর থানার পুলিস এর আগেও মাটির লরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এই অবৈধ মাটির কারবারও বন্ধ করবে পুলিস। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাসকদলের নেতাদের মদতে এই কারবার হচ্ছে। পঞ্চায়েতকে জানানো হলেও কাজ হয়নি। বারুইপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, পুলিস ঘটনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।
ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে পিয়ালি নদী খালে পরিণত হয়েছে। এই পিয়ালি নদীর একদিকে ক্যানিং, অপরপ্রান্তে বারুইপুর। বারুইপুরের উত্তরভাগ থেকে ধোসা যাওয়ার রাস্তায় বামদিকে খাল পাড়ে চলছে মাটি কাটার কারবার। জানা গিয়েছে, দিনে ৫ থেকে ৬ লরি মাটি নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। কাজ করছে ৫ থেকে ৮ জন শ্রমিক। এক শ্রমিক জানালেন, ২০ ট্রিপ মাটি নিয়ে যাওয়ার জন্য ৬০০ টাকা পাই। নস্কর ইটভাটায় যাচ্ছে মাটি। ইটভাটার মালিকের সঙ্গে মাটি কারবারির মোটা টাকা রফা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের ডেভিসআবাদের এক ব্যক্তি মাটি কাটার বরাত দিয়েছেন বৃন্দাখালি পঞ্চায়েত এলাকার শাসকদলের দুই কর্মীকে। বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে মাটি কাটার কাজ। কাছেই পুলিস ক্যাম্প। পুলিসের গাড়িও চলাচল করে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে পুলিসের চোখের সামনেই দিনের পর দিন এই কারবার চলছে। -নিজস্ব চিত্র