অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: আর ক’দিন বাদেই নামবে বর্ষা। অথচ, কেতুগ্রামের মৌগ্রামে বাবলা নদীর পাড় কেটে যেভাবে দেদার মাটি লুট করা হচ্ছে, তাতে এলাকার বাসিন্দারা শঙ্কিত। নদীতে সংযোগ করে বড় বড় টানেল তৈরি করা হচ্ছে। পাড় ভাঙছে নদীর। বর্ষায় নদীর জল বাড়লে আশেপাশের গ্রামগুলির অস্তিত্ব হারাতে পারে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। তৃণমূলের কয়েকজন মাতব্বরের এমন বেআইনি কারবারে বীতশ্রদ্ধ ছিলের কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বাসিন্দারা৷ তাঁরা এখন ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চাইছেন।
কেতুগ্রামের বিজেপি বিধায়ক অনাদি ঘোষ বলেন, ‘এসব অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে৷ কাটমানি আর মাটি চুরির সংস্কৃতি কেতুগ্রামের বুকে আর হতে দেব না। নদী থেকে বালি তুলে শেষ করে দিয়েছে তৃণমূল নেতারা। প্রশাসনকে এবার আরও সক্রিয় হতে বলব।’
কেতুগ্রাম-২ ব্লকে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩০ হাজার লিড পায় বিজেপি। কিন্তু কেতুগ্রাম-১ ব্লকে বিজেপি প্রায় ৪ হাজারে পিছিয়ে ছিল। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মানুষের সমর্থন অনেক আগেই তৃণমূল হারিয়েছিল। কারণ দিনের পর দিন বেশ কয়েকজন নেতার দাদাগিরিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। আগের দু’টি লোকসভা নির্বাচনেও কেতুগ্রাম-২ ব্লকে লিড পায়নি তৃণমূল। তারপরেও শিক্ষা নেননি নেতারা। ফল যা হওয়ার তা হয়েছে। দলের একাংশ কেতুগ্রাম-২ ব্লকজুড়ে অবৈধ মাটি, ভাগীরথী থেকে সাদা বালি চুরির কারবার চালাত। প্রতিবাদ করলেই জুটত হুমকি, মারধর। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রামের দাসপাড়া এলাকায় বাবলা নদীর ঘাট সংলগ্ন মাটি কেটে লুট চালিয়েছে দু’ মাস আগেও। নদীর পাড় সংলগ্ন কৃষি জমি আগেই কেটে সাফ করে দিয়েছে। সেখানে মানুষেরে উচ্চতার সমান খাল কেটে দিয়েছিল। জেসিবি মেশিন নামিয়ে মাটি তোলা হয়েছে। ফলে বাবলা নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছে। লাগোয়া গ্রামগুলির দিকে ঢুকে পড়ছে নদী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রভাবশালী নেতাদের মদতেই এমনটা করছে মাফিয়ারা। আর সেই মাটি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা করে ট্রাক্টর পিছু বিক্রি করেছে তারা। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব দাস, জটাই দাসরা বলছিলেন, ‘আমরা বার বার নিষেধ করেছিলাম। কেউ তখন শোনেনি। নদীর পাড় যেভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে তাতে বর্ষায় নদীর জল বাড়লে বন্যায় ভেসে যাবে গোটা এলাকা। পুলিশ-প্রশাসন সবকিছু জেনেও নিশ্চুপ ছিল৷ এর আগেও মাটি লুট চলছিল৷ একজন কারবারির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেনি৷ এখন বাবলা নদীর পাড়ে গেলেই তাজ্জব বনে যেতে হয়। পাড় সংলগ্ন বাঁশঝাড়ের শুধু গোঁড়াটুকু রেখে পুরো এলাকা সাফ করে দেয় মাটি মাফিয়ারা। নদী থেকে যেভাবে টানেল কেটে দেওয়া হয়েছে, তাতে গ্রামে অনায়াসেই জল ঢুকে যেতে পারে। এলাকাটি অতি ভাঙন প্রবণ হওয়া সত্ত্বেও মাফিয়ারা কোনো তোয়াক্কাই করত না। এর আগে পড়শি রতনপুর গ্রামে বাবলা নদীর পাড়ের জমি থেকে মাটি লুঠ করেছ তারা। তৃণমূলের কয়েকজন মাতব্বর ক’ বছর আগে পর্যন্ত দিনমজুরের কাজ করত। তাদের এখন পেল্লাই বাড়ি, বিলাস-বৈভব জীবনযাত্রা। রাজ্যে পালাবদলের ওই নেতারা এখন উৎকণ্ঠায়। বাসিন্দারাও চাইছেন নতুন সরকার মাতব্বর ও মাটি মাফিয়াদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নিক।