মুম্বই: ২০০৫ সালের নভেম্বর। গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে তখন অমিত শাহ। গ্যাংস্টার সোহরাবুদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী কৌসর বিকে অপহরণ করে ভুয়ো এনকাউন্টারে খুনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপর ২০০৬ সালে সোহরাবুদ্দিনের সঙ্গী তথা প্রত্যক্ষদর্শী তুলসীরাম প্রজাপতিকেও সাজানো এনকাউন্টারে খতম করা হয় বলে অভিযোগ। দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া সেই মামলায় অভিযুক্ত ২২ জনের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন গুজরাত ও রাজস্থান পুলিশের জুনিয়র লেভেল অফিসার। বাকি একজন গুজরাতের একটি ফার্মহাউসের মালিক। যদিও বিশেষ আদালতে তাঁরা প্রত্যেকেই বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছিলেন। এবার বম্বে হাইকোর্টও বিশেষ আদালতের সেই রায় বহাল রাখল।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ২২ অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছিল বিশেষ আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০১৯ সালে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন নিহত সোহরাবুদ্দিন শেখের ভাই রুবাবুদ্দিন ও নায়াবুদ্দিন। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই হাইকোর্টে জানিয়েছিল, বিশেষ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে তারা হাঁটবে না। এই অবস্থায় সোহরাবুদ্দিনের ভাইদের করা আবেদন এবার খারিজ করে দিল বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর ও গৌতম অঙ্খড়কে নিয়ে গড়া হাইকোর্টের বেঞ্চ। বিশেষ আদালতের রায়তেই সম্মতি জানিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। এই মামলায় বিশেষ আদালতের বক্তব্য ছিল, সোহরাবুদ্দিন শেখ ও বাকিদের ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে বা সেই ঘটনার নেপথ্যে অভিযুক্তদের ভূমিকা থাকার জোরালো যুক্তি বা তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।
প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, সস্ত্রীক সোহরাবুদ্দিন ও প্রজাপতি হায়দরাবাদ থেকে বাসে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে ফিরছিল। ২০০৫ সালের ২২ নভেম্বর রাতে তাদের হেপাজতে নেয় পুলিশের একটি টিম। একটি গাড়িতে তোলা হয় সোহরাবুদ্দিন ও তার স্ত্রীকে। অন্য একটি গাড়িতে প্রজাপতিকে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় গুজরাতের একটি ফার্মহাউসে। পুলিশ অফিসারদের পাশাপাশি ২২ অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন ওই ফার্মহাউসের মালিক। ২০০৫ সালের নভেম্বরে আমেদাবাদের কাছে সোহরাবুদ্দিকে ও তিনদিন পর তার স্ত্রীকেও পুলিশ ভুয়ো এনকাউন্টারে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। উদয়পুর জেলে বন্দি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী তুলসীরাম প্রজাপতিকে এক বছর পর গুজরাত-রাজস্থান সীমানায় একইভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে উঠেছিল। বিচারের প্রক্রিয়া গুজরাত থেকে সরিয়ে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়েছিল।