Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্তানকে বাঁচাতে মণিপুর থেকে ফোন ক্যানিংয়ের ডাক্তারকে, শুরু চিকিৎসা

সন্তানকে বাঁচাতে মণিপুর থেকে ফোন ক্যানিংয়ের ডাক্তারকে, শুরু চিকিৎসা
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ঘরের বাইরে খেলার সময় হঠাৎ চিৎকার সাত বছরের শিশুটির। মা-বাবা ছুটে আসেন। দেখেন সন্তানের পায়ে দু’টি ছোট গোল গর্তের মতো দাগ। বোঝেন, বিষধর সাপ ছোবল দিয়েছে পায়ে। ক্রমে যন্ত্রণা বাড়ে শিশুটির। ছটফট করতে শুরু করে। মা-বাবা অথৈ জলে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। আচমকা বিদ্যুৎ ঝলকের মতো মনে পড়ে, এক চিকিৎসককে চেনেন তাঁরা। তবে তিনি থাকেন বহু দূরে। তবু ফোন করে বসেন মা-বাবা। মণিপুরের একটি অখ্যাত গ্রাম থেকে অসহায় দুই অভিভাবকের ফোন আসে পশ্চিমবঙ্গের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক সমরেন্দ্রনাথ রায়ের কাছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শুরু ভার্চুয়াল মাধ্যমের সাহায্যে চিকিৎসা। শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়।সুদূর উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য থেকে ফোন পেয়ে আশ্চর্যই হয়েছিলেন সমরেন্দ্রবাবু। তবে দূরভাষে শুনে শুনেই শিশুটির শুশ্রূষা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাটির পায়ের দাগ ছবি তুলে পাঠিয়েছিল। দেখে মনে হয়েছিল অপেক্ষাকৃত কম বিষধর কোনও সাপ কামড়েছে। ওষুধ বলে দি। অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি। আপাতত সুস্থ রয়েছে শিশুটি।’ মণিপুরের ওই গ্রামের দম্পতি ক্যানিংয়ের চিকিৎসকের ফোন নম্বর পেলেন কীভাবে? শিশুটির মা-বাবা জানান, কয়েক বছর আগে গুয়াহাটিতে একটি সেমিনারে গিয়েছিলেন সমরেন্দ্রবাবু। সেখানে তাঁর সঙ্গে আলাপ। নিয়েছিলেন ফোন নম্বর। সেটি যে ছেলের প্রাণ বাঁচাতে কাজে আসবে তা ভাবেননি। বাড়িতে আচমকা বিপদ এসে যাওয়ার পর সেই ডাক্তারবাবুর কথাই মনে পড়েছিল সবার প্রথমে।
Advertisement
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, এ বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সাপের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। জেলায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ সাপের ছোবল খেয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজার। এ বছর এখনও পর্যন্ত সাপের কামড়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর সেই সংখ্যা ছিল পাঁচ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ চন্দ্রবোড়া সাপের কামড় খেয়েছে। বর্ষা শেষ। এখন ঠান্ডার আমেজ। কিন্তু এখনও সাপের উপদ্রবে জেরবার এই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা। সুন্দরবনে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। 
কেন এবার এমন পরিস্থিতি? সর্প বিশেষজ্ঞরা বললেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, মাঠে-ঘাটে এখনও জল জমে থাকা ইত্যাদি কারণে সাপেদের আনাগোনা কমছে না। সাপেদের শীত ঘুমে যাওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই এখনও গ্রামেগঞ্জে মানুষ সর্পদংশনের শিকার।
সম্পর্কিত সংবাদ