Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

সুনীতাদের ফেরাতে ‘বিশ্ববাসীর দরবারে’ নাসা!  লুনার মিশনে উদ্ধার-মডেল চেয়ে আর্জি, পুরস্কার ৪৫ হাজার ডলার 

সুনীতাদের ফেরাতে ‘বিশ্ববাসীর দরবারে’ নাসা!  লুনার মিশনে উদ্ধার-মডেল চেয়ে আর্জি, পুরস্কার ৪৫ হাজার ডলার 
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ওয়াশিংটন: অন্তরীক্ষে অন্তহীন অপেক্ষা। কবে ঘরে ফেরা... জানা নেই। এদিকে ক্রমে কমছে ওজন। মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের হাড় জিরজিরে শীর্ণ চেহারা কোথাও যেন বারবার নাসার ব্যর্থতার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছে। সম্প্রতি সুনীতা ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোরকে ছাড়াই মহাকাশ থেকে ফিরে এসেছে বোয়িং স্টারলাইনার। তারপর বিষয়টি আরও মাথাচাড়া দিয়েছে। কারণ, মহাকাশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ফিরিয়ে আনার ‘গ্যারান্টি’? নেই। এই পরিস্থিতিতে সুনীতাদের মতো আটকে থাকা মহাকাশচারীদের উদ্ধারে বিশ্বের মহাকাশ গবেষকদের ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিয়েছে নাসা। গালভরা নাম—‘লুনার রেসকিউ সিস্টেম’। লক্ষ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের চন্দ্র অভিযান। আসল মানেটা হল, আমরা পারছি না। আপনারা কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। চাঁদে যাতে কেউ আটকে না পড়েন, সুনীতার মতো কারও যাতে সমস্যা না হয়, তাই আগাম পদক্ষেপ। এবং সেই পদক্ষেপ যেন ‘সস্তায় পুষ্টিকর’ হয়। কিন্তু বিশ্ববাসী কেন এগিয়ে আসবে? তার কারণও রয়েছে। এক্ষেত্রে সেরা উদ্ভাবনের জন্য মোট ৪৫ হাজার ডলার পুরস্কার। প্রশ্ন উঠছে, এই গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ আসলে ঘুরপথে আত্মসমর্পণের চেষ্টা নয় তো?
Advertisement
গত ৫ জুন সুনীতাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল বোয়িং স্টারলাইনার। গন্তব্যে পৌঁছনোর পরই একের পর যান্ত্রিক ত্রুটি। হিলিয়াম লিক করার পাশাপাশি থাস্টার চালুর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের ফিরিয়ে আনার যে ব্যবস্থা নাসা করেছিল, তাতেই দেখা দেয় প্রযুক্তিগত ত্রুটি। ওই ‘মিশন’ এখনও রেডি করে উঠতে পারেনি নাসা। বিকল্প ব্যবস্থা আছে শুধু এলন মাস্কের ‘স্পেস এক্স’-এর কাছে। তাতে যা খরচ নাসাকে করতে হবে, আগামী পাঁচটা মিশনের অর্থ বেরিয়ে যাবে কোষাগার থেকে। তাহলে সুনীতাদের নিয়তি কী? মহাকাশেই মৃত্যু? নাসা অবশ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়ে আসা হবে সুনীতাদের। কিন্তু কেন এই ছ’মাস দেরি, তার ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়নি তারা। এর মধ্যেই আবার নাসা আনছে লুনার মিশন। তাতেও যে মহাকাশচারীদের ফেরানোর ‘ফুল প্রুফ’ ব্যবস্থা নেই, তা তাদের ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে’ স্পষ্ট! মহাকাশচারীদের অবস্থা সুনীতার মতো যাতে না হয়, তাই এই সতর্কতা। গবেষকদের এমন সিস্টেম তৈরি করতে বলা হচ্ছে, যাতে তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। ছাব্বিশের অভিযানে মূলত চাঁদের দক্ষিণ মেরুকেই টার্গেট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে এই অঞ্চলের খামখেয়ালি আবহাওয়া, বরফ, পাথুরে খাড়াই ঢাল এবং বড় বড় গর্ত। আর এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই ‘রেসকিউ সিস্টেম’ তৈরির ক্ষেত্রে গবেষকদের কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে রোভার ছাড়াই কমপক্ষে দু’কিমি উপরে মহাকাশচারীদের বহন করতে পারে এটি। ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঝুঁকতেও পারে। মাথায় রাখতে হবে চাঁদের কম মাধ্যাকর্ষণের বিষয়টিও। কীভাবে আবেদন? মগজে এমন কোনও পরিকল্পনা এলে ‘HeroX’ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জানানো যাবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেরা রেসকিউ সিস্টেমের রূপকারকে বেছে নেবেন নাসার ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞরা। বুঝিয়ে দেবেন, অপারগ হলেও নিরুপায় বোধহয় তাঁরা নন।
সম্পর্কিত সংবাদ