সৌম্যজিৎ সাহা, গঙ্গাসাগর: আজ, মঙ্গলবার মকর সংক্রান্তি। মোক্ষলাভের আশায় সোমবার থেকেই সাগরের পাড়ে ভিড় করতে শুরু করেছেন তীর্থযাত্রীরা। আজ সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট থেকে বুধবার সকাল ৬টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের পালা। এই স্নানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রশাসন সব রকম ব্যবস্থা করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সমুদ্র সৈকত জুড়ে চলছে পুজোআচ্চা। কেউ করছেন গো দান, কেউ আবার মানত পূর্ণ হওয়ায় জলে ডুব দিয়ে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছেন। সেই ভিড়েই হাজির মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজেন্দ্র সিং রানা। তিনি তীর্থ করতে এলেও বাকিদের থেকে আলাদা। কারণ রাজেন্দ্র বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। বাকিরা যখন সঙ্গীদের নিয়ে পুণ্যলাভ করতে এসেছেন, তখন এই পুণ্যার্থীর ভরসা দু’টি ক্রাচ। হাজারো বাধা কাটিয়ে ১৭০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন কপিলমুনির পাদদেশে। তিনি বলেন, বাপ-ঠাকুরদার কাছে গঙ্গাসাগরের কথা অনেক শুনেছি। তাঁরা বলতেন, সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। কেন একবার? কী এমন দুর্গম পথ যে, একবার আসাই কঠিন হয়ে পড়ে? অনেকদিন ধরেই ইচ্ছা ছিল, নিজের চোখে তা দেখার। তাই এসেছি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তাই মনকে শক্ত করে রওনা দিয়েছিলাম।
Advertisement
বছর বিয়াল্লিশের রাজেন্দ্র ইন্দোর শহরের দমকল বিভাগে কর্মরত। পাঁচ বছর বয়সে তাঁর পোলিও ধরা পড়ে। তারপর দুই পা’ই বেঁকে যায়। এভাবেই তিনি পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার সকালে চার নম্বর সমুদ্র সৈকতে নামলেও সংক্রান্তির দিন ভিড়ের মধ্যে কীভাবে স্নান করবেন, সেটাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এদিন কয়েকজনকে তিনি হাতে জল তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সেই জল মাথায় ছিটিয়ে সূর্য নমস্কার করে ফিরে আসেন পাড়ে। কীভাবে এলেন এত দূর? ওই তীর্থযাত্রীর স্পষ্ট কথা, ট্রেন-বাস-ভেসেল। কষ্ট হয়েছে ঠিক, তবে তা মনে রাখিনি। আজ, মঙ্গলবার মকর সংক্রান্তিতে সাগরের জলে ডুব দেবেন রাজেন্দ্র। তারপর পুজো দিয়ে ফিরে যাবেন বাড়ি। প্রথমবারের সাগর যাত্রার আনন্দ ভাগ করে নেবেন পরিবারের সঙ্গে।
এদিকে, আজ সাত তাড়াতাড়ি যাতে শাহী স্নান সারতে পারেন, সেকারণে বহু তীর্থযাত্রী সোমবার থেকেই মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে ছাউনি করে থাকতে শুরু করেছেন।
এদিকে, আজ সাত তাড়াতাড়ি যাতে শাহী স্নান সারতে পারেন, সেকারণে বহু তীর্থযাত্রী সোমবার থেকেই মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে ছাউনি করে থাকতে শুরু করেছেন।



