Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুন্দরবনের গাইড দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, পর্যটকদের চেনাচ্ছেন জঙ্গল-বাঘের ডেরাও

সুন্দরবনের গাইড দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, পর্যটকদের চেনাচ্ছেন জঙ্গল-বাঘের ডেরাও
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনের গ্রামে জন্ম। নিজের জন্মস্থান নিয়ে কিছু করার আকাঙ্ক্ষা মনে ছিলই। অবশেষে কিছু করার সুযোগ এল গত মাসে। সুন্দরবনের সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতে গাইডের কাজে যোগ দিলেন চম্পাহাটির সুষমা চৌধুরী। তিনি সুশীল কর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এখন পড়াশোনার ফাঁকে মানুষকে নিয়ে লঞ্চে করে জঙ্গল চেনাতে বেরন। ম্যানগ্রোভের আনাচকানাচে পর্যটকদের নিয়ে যান। গল্পের ছলে শোনান সুন্দরবনের জানা-অজানা কাহিনি। সুষমা গোসাবার দয়াপুরের বাসিন্দা। তিনিই এখন সুন্দরবনের নবীনতম গাইড। ঘোরাফেরার কাজ তাই দূরশিক্ষার মাধ্যমে কলেজে ক্লাস করছেন। পাঁচদিন কাটান জঙ্গলে, বাকি দু’দিন ক্লাস করতে যেতে হয়। বাড়িতে দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। তাদের পড়াশোনার খরচের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সুষমা। চলতি বছর ১৮ মহিলা গাইড নিয়োগ করেছে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ। অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেছেন সুষমা। সুন্দরবন নিয়ে জ্ঞান বাড়াতে নানা রকমের বই পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের অনেক রকমের প্রশ্ন থাকে তার উত্তর পড়াশোনা না করা থাকলে কিছু বলা যায় না। তাই টুরিস্টদের সবরকম কৌতূহলের জবাব দিতে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও এখানকার জনজীবন সম্পর্কে বাড়তি পড়াশোনা করতে হচ্ছে।’ ‘গাইডের চাকরি কেন বেছে নিলেন?’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ গাইডকে দেখে উৎসাহ পেয়েছিলাম।’ কাজ করতে গিয়ে কিছু আক্ষেপও তৈরি হয়েছে এই ছাত্রীর। বলেন, ‘দু’মাস হল চাকরিতে যোগ দিয়েছি। কিন্তু ট্যুর পেয়েছি মাত্র ১০ দিন। বাকি দিনগুলি অফিসে গিয়ে বসেই থাকতে হয়েছে। যেহেতু গাইডের চাকরিতে নো ওয়ার্ক নো পে নিয়ম রয়েছে তাই বেশিরভাগ দিন খালি হাতেই ফিরতে হয়। সরকার যদি আমাদের জন্য স্থায়ী বেতনের ব্যবস্থা করে তাহলে অনেকটাই সুবিধা হবে।’ সুষমার মতো একই দাবি জানিয়েছেন বাকি গাইডরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ