Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাপের কামড়ের পর ওঝার কেরামতি, চন্দ্রকোণায় কুসংস্কারের বলি বালিকা

চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপর আস্থা না রেখে ওঝার ঝাড়ফুঁকের উপর ভরসা করার চরম মূল্য চোকাতে হল এক নাবালিকাকে।

সাপের কামড়ের পর ওঝার কেরামতি, চন্দ্রকোণায় কুসংস্কারের বলি বালিকা
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘এআই’ এর যুগেও কুসংস্কারের অন্ধকার কাটেনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপর আস্থা না রেখে ওঝার ঝাড়ফুঁকের উপর ভরসা করার চরম মূল্য চোকাতে হল এক নাবালিকাকে। সাপের কামড়ে অকালে প্রাণ হারাল চন্দ্রকোণা থানার নারায়ণচকের মধুমিতা ভাঙি(১২)। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষধর সাপ কামড়ানোর পর বালিকাকে দীর্ঘক্ষণ ওঝার বাড়িতে ফেলে রেখে সময় নষ্ট করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই বালিকা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির সামনে সমবয়সিদের সঙ্গে বল খেলছিল মধুমিতা। খেলার ছলে আচমকাই বলটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। মৃতার বাবা সুভাষ ভাঙি জানিয়েছেন, সেই বল কুড়োতে গেলে ঝোপের মধ্যে থাকা একটি গোখরো সাপ মধুমিতার পায়ে ছোবল মারে। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। তবে, তড়িঘড়ি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে তাঁরা মেয়েকে নিয়ে ছোটেন এক স্থানীয় ওঝার কাছে। অভিযোগ, ওই ওঝা চিকিৎসার নামে বুজরুকির পসরা সাজিয়ে বসে। বিষ নামানোর অছিলায় দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ‘বিষ মোড়’ বা ‘বিষ পাথর’ দিয়ে বিষ তোলার ব্যর্থ চেষ্টা। এদিকে সময় যত গড়াতে থাকে, শরীরে বিষের প্রভাবে বালিকা তত ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে। শরীরের অবস্থার চরম অবনতি হলে চেতনা ফেরে পরিবারের। ওঝার বাড়ি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় ওই বালিকা। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি সম্পূর্ণ সচেতনতার অভাব এবং কুসংস্কারের ফল। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য, গোখরো সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অর্থাৎ অ্যান্টি ভেনাম সিরাম (এভিএস) হাসপাতালে সর্বদা মজুত থাকে। ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে সময় নষ্ট না করে যদি সঠিক সময়ে বালিকাকে হাসপাতালে আনা হত, তবে তাকে নিশ্চিতভাবে বাঁচানো সম্ভব হত।

সম্পর্কিত সংবাদ