উৎসবের মরশুমে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারে রমরমা বেড়েছে
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: উৎসবের মরশুমে ভারত থেকে বাংলাদেশে দেদারে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার হচ্ছে। সীমান্ত পেরলেই ওই সিরাপের দাম মিলছে প্রায় চারগুণ। তাই মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের অন্ধকারে সিরাপ পাচার হচ্ছে। গত একসপ্তাহে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকলক্ষ টাকার বেশি দামের নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement

ভারতীয় বাজারে এক-একটি ১০০মিলিলিটার কাশির সিরাপের বোতলের দাম মাত্র ২২০টাকা। সেই সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করতে পারলেই মিলছে ৮০০টাকা। চারগুণ মুনাফার লোভে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বহু মানুষ সিরাপ পাচারে নেমে পড়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত মদ পাওয়া যায় না। সেদেশে মদের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই সেখানে নেশার জন্য অনেকেই এই সিরাপ ব্যবহার করে। শীতের আগেই সেখানে সিরাপের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই এই মরশুমেই সিরাপ পাচারের রমরমা বেড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর ও বারাণসীতে এই অতিরিক্ত কোডাইন মিশ্রিত কাশির সিরাপ তৈরি হয়। যা বাংলাদেশে শুধুমাত্র নেশার জন্য ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে পাচার করতে পারলেই এক-একটি সিরাপের শিশি থেকে অন্তত ৫০০টাকা লাভ হয়। এখন মুর্শিদাবাদের সীমান্ত এলাকাজুড়ে কারবারিরা সিরাপ পাচারের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পেরেছে, সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশো যুবক এই কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। এনিয়ে উদ্বিগ্ন পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা।
বিশেষ করে ভগবানগোলা, লালগোলা, জলঙ্গি, কাকমারি চর, বামনাবাদ, সাগরপাড়া, ঘোষপাড়া ও রানিনগরের নানা এলাকা হয়ে কাশির সিরাপ পাচার বাড়ছে। এখানকার সিন্ডিকেট ২২০টাকা দাম দিয়ে এক-এক বোতল সিরাপ কিনছে। সীমান্তের সিন্ডিকেট থেকে কারবারিরা তা নিয়ে ৮০০টাকা বোতল দামে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। সেখানে আরও বেশি দামে ওই সিরাপ মাদক হিসাবে বিক্রি হচ্ছে।
বিএসএফের আধিকারিকরা জানান, মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে এই সিরাপ খুব জনপ্রিয়। সাগরপাড়া ও রানিনগর সীমান্ত দিয়ে এখন সবথেকে বেশি সিরাপ পাচারের চেষ্টা করছে কারবারিরা। সীমান্তে বিএসএফ সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু, কারবারিরা বাইরে থেকে বস্তা বস্তা সিরাপ এনে গ্রামের মধ্যেই লুকিয়ে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলি ওপারে চোরাচালান করে দেওয়া হয়। সিরাপ পাচার রুখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।