নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট জালিয়াতির অন্যতম মাথা সমরেশ বিশ্বাসের মাধমে কি পাকিস্তানি চররাও পাসপোর্ট পেয়েছে? উত্তর খুঁজছে লালবাজার। পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কোনও অফিসার সমরেশের মাধ্যমে ভারতে অনুপ্রবেশের পর নাম বদলে পাসপোর্ট জোগাড় করে ফেলেছে কি না, তা নিয়ে খোঁজখবর চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জাল নথি দিয়ে যারা পাসপোর্ট বাগিয়েছে, তাদের মধ্যে ১৩১ জনের নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, এর চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। তাই এই দলে পাক চর বা আইএসআইয়ের কেউ থাকার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মত গোয়েন্দাদের। বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে এই ধরনের ভুয়ো পাসপোর্ট ব্যবহারকারীদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে জেরায় সমরেশ তদন্তকারীদের জানিয়েছে, বাংলাদেশের এজেন্টরা অনেক বাংলাদেশিকে তার কাছে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে কে পাক চর আর কে আইএসআইয়ের অফিসার, এটা তার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। যেসব অনুপ্রবেশকারী তার মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছে, তাদের কাউকে সে চিনত না বলেই দাবি সমরেশের। এর মধ্যে অনেকে আবার পাসপোর্ট তৈরি করার পর তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, বেশ কিছু ব্যক্তি পাসপোর্ট করানোর পর সমরেশের হাত ধরে তাদের পরিচিত আরও অনেকের পাসপোর্ট করিয়ে নিয়েছে। তারা এদেশে না ঢুকেও বাংলাদেশে বসেই ভারতের পাসপোর্ট পেয়েছে। এখান থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, এর মধ্যে কোনও পাক চর বা আইএসআইয়ের অফিসার থাকলেও থাকতে পারে। এদিকে, এই পাসপোর্টগুলির নথি যাচাই ও ‘গ্র্যান্টিং’-এর দায়িত্বে থাকা অফিসারদের তালিকা চেয়ে আরপিও-কে ফের চিঠি দিয়েছে লালবাজার।



