Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

সমরেশ বসু ও ‘প্রজাপতি’  

সমরেশ বসু ও ‘প্রজাপতি’
 
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সেদিন আদালত কক্ষে উপচে পড়েছিল ভিড়। পাঠক মহলে সমাদৃত একটি উপন্যাসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে অশ্লীলতার দায়ে। সেই অভিযোগের সারবত্তা কতটা, তারই বিচার হচ্ছে। লেখকের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আদালত কক্ষে নক্ষত্র সমাবেশ। সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু, নরেশ গুহর মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিরা হাজির সাক্ষ্য দিতে। আর কাঠগড়ায় স্বয়ং সাহিত্যিক সমরেশ বসু। আসলে সমরেশের ‘প্রজাপতি’ প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। ১৯৬৭ সালে একটি শারদীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘প্রজাপতি’। তা কিনতে লাইন দিয়েছিল পাঠককুল। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে একরাশ বিতর্কও ঘনিয়ে আসে। ১৯৬৮ সালে আইনজীবী অমল মিত্র ‘প্রজাপতি’ উপন্যাসটিকে অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার আবেদন করে আদালতে মামলা করেন। তাঁর আরও অভিযোগ ছিল, ‘প্রজাপতি’ শুধু অশ্লীল উপন্যাসই নয়, এটি সাহিত্যের পবিত্রতা নষ্ট করছে। উপন্যাস পড়ে কমবয়সি পাঠকরা উচ্ছন্নে যাচ্ছে। সাহিত্য সমাজমানসে নৈতিকতা তৈরি করে। কিন্তু ‘প্রজাপতি’ সেখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে কামনা সৃষ্টি করছে। অভিযোগকারীর প্রশ্ন, এমন উপন্যাসের সাহিত্যমূল্য কোথায়? 
Advertisement
সাক্ষী বুদ্ধদেব বসু জানান, তিনি এই লেখায় অশ্লীলতার বদলে সমাজ বাস্তবতার ছবিই খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতা মাপার মানদণ্ড কি? নরেশ গুহরও বক্তব্য ছিল প্রায় একই। এরপরেও ‘প্রজাপতি’কে নিষিদ্ধ করার পক্ষে রায় দেয় আদালত। মামলার রায় বেরিয়েছিল ১৯৬৮ সালের ১১ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই ‘প্রজাপতি’ উপন্যাসটি অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়। সমরেশ বসুকে ২০১ টাকা জরিমানা করে আদালত। অনাদায়ে দু’মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেয়। প্রকাশকেরও একই সাজা হয়। কলকাতা উচ্চ আদালতও ৫ বছর শুনানির পর ব্যাঙ্কশাল কোর্টের রায়ই বহাল রাখে। ১৯৭৯ সালে মামলাটি ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। পরের বছর শীর্ষ আদালত ‘প্রজাপতি’ উপন্যাসের অনুবাদ চায়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জমা পড়া অনুবাদের কপিটি আগুনে পুড়ে যায়। ফের ১৯৮৫ সালে সেই অনুবাদ পেশ করা হয়। সেবছরই ২৪ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, ‘প্রজাপতি’ কোনও অশ্লীল উপন্যাস নয়। বাংলার কোনও উপন্যাস নিয়ে ১৭ বছর ধরে মামলা এক নজিরবিহীন ঘটনা।
সম্পর্কিত সংবাদ