কখনও তাঁর উপন্যাসের পটভূমি পরমাণু বোমা আবিষ্কার, কখনও বাংলার রেনেসাঁ। কখনও তিনি আমাদের নিয়ে যান উদ্বাস্তু শিবিরের অন্দরে, কখনও আবার তাঁর কলমের মাধ্যমেই জানতে পারি বিদেশের মাটিতে কীভাবে লড়াই করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর লেখনীর হাত ধরেই আমরা পৌঁছে গিয়েছি কল্পবিজ্ঞানের জগতে। এই লেখকের নাম নারায়ণ সান্যাল। আসলে তাঁর লেখার বিষয়বস্তু কখনও নির্দিষ্ট কোনও গণ্ডিতে বাঁধা থাকেনি। বিষয় বৈচিত্র্যের নিরিখে তাঁর মতো সাহিত্যিক বাংলায় বিরল। আজও তাঁর ‘বিশ্বাসঘাতক, ‘আমি নেতাজিকে দেখেছি’ বা ‘কাঁটা’ সিরিজের গল্প বইমেলায় ‘বেস্টসেলার’। ২০০৫ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন নারায়ণ সান্যাল। অথচ কর্মজীবনের শুরুর দিকে তাঁর লেখক হওয়ার কথাই ছিল না। ১৯২৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন নারায়ণ সান্যাল। ছোটবেলা কেটেছে কৃষ্ণনগরে। ১৯৪৮ সালে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। যোগ দেন পূর্তদপ্তরে। ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও সফল তিনি। পেয়েছেন ‘ফেলো অফ দি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ ও ‘ফেলো অফ দি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’-এর মতো সম্মান। কিন্তু সেই জগৎ থেকে চলে এলেন সাহিত্য জগতে। নারায়ণ সান্যাল বললেই যে উপন্যাসের কথা মনে আসে, তা হল ‘বিশ্বাসঘাতক’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরমাণু বোমা তৈরির কাজ শুরু করেছিল আমেরিকা। যার পোশাকি নাম ছিল ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’। কিন্তু হঠাত্ই অন্য দেশে ফাঁস হয়ে যায় সেই প্রকল্পের খুঁটিনাটি। এই প্রেক্ষিতেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ লিখেছিলেন তিনি। যেখানে বিজ্ঞানের সঙ্গে মিশেছে রোমান্স, থ্রিলার। যখনই তাঁকে কোনও বিশেষ গোত্রের লেখক হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে, তখনই ছক ভেঙে ফেলেছেন। লিখেছেন ‘আমি নেতাজিকে দেখেছি’, ‘আমি রাসবিহারীকে দেখেছি’ বা ‘নেতাজির রহস্য সন্ধানে’-র মতো গবেষণামূলক বই। ছোটদের জন্য লিখেছেন ‘শার্লক হেবো’, ‘হাতি আর হাতি’, ‘ডিজনিল্যান্ড’। আবার লিখেছেন ‘নক্ষত্রলোকের দেবতাত্মা’র মতো কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক রচনা। বিদেশি গোয়েন্দা গল্পের আদলে লেখেন ‘কাঁটা’ সিরিজ। নারায়ণ সান্যালের গল্প, উপন্যাস নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ‘নাগচম্পা’, ‘সত্যকাম’, ‘অশ্লীলতার দায়ে’।



