Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমাপ্তিতেই সূচনা, বাঙালি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে ‘নবজাগরণে’র আশায় বাংলা

সমাপ্তিতেই সূচনা, বাঙালি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে ‘নবজাগরণে’র আশায় বাংলা
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্যার রাজেন মুখোপাধ্যায়কে কি বাঙালি মনে রেখেছে। অনেকের কাছেই হয়তো অচেনা ঠেকবে নামটা। কিন্তু মার্টিন অ্যান্ড বার্ন? এই সংস্থাকে বাঙালি ভুলতে পারেনি। কারণ, এই মার্টিন বার্নের হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বেলুড় মঠ, গার্ডেন রিচ। বিদেশি মার্টিন সাহেবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন রাজেন মুখোপাধ্যায়। এক সফল ব্যবসায়ী। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের নাম কিন্তু আমাদের সবার মননে বসে আছে। ইংরেজদের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় ব্যাঙ্ক, বিমা, জাহাজ... কী ছিল না তাঁর ক্যারিশমায়? তারপরও নিন্দুকে বলে, বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না! এই ‘মিথ’ ভাঙতেই যে এক হয়েছেন এমন কয়েকজন বাঙালি, যাঁদের ‘উদ্যোগ’ ছড়িয়ে পড়েছে ভিন দেশেও। পণ্য হোক বা পরিষেবা, বাঙালি পিছিয়ে নেই। কয়েক বছর আগে এই বার্তা দিতেই তৈরি হয়েছিল ‘বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিল’। কটাক্ষপন্থীদের একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া, আমরাই পারি। সেই সংগঠনই ব্যবসার অভিমুখ চেনাতে সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক বইমেলা প্রাঙ্গণে পাঁচ দিনের জন্য আয়োজন করেছিল এক অভিনব মেলার—‘বাংলার নবজাগরণ’। রবিবার ছিল সেই মেলার সমাপ্তি। আর এই সমাপ্তি থেকেই সূচনা হল এক নতুন যাত্রার। কারণ, যাঁরা এই ক’দিন মাঠে ঘুরে গেলেন, তাঁরা দেখলেন, ব্যবসায় বাঙালি মোটেও পিছিয়ে নেই। তাঁরা ফিরলেন একবুক উৎসাহ নিয়ে—ব্যবসার। স্টার্ট আপের। বাঙালিয়ানার।
Advertisement
অভিনব এই উদ্যোগে টইটুম্বর ছিল কেনাকাটা ও পেটপুজোর আয়োজন। এমনকী চারচাকা কেনার যাঁরা প্ল্যান করছেন, তাঁদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক গাড়ির ক্রেতাদেরও হতাশ করেনি মেলা। বিরিয়ানি থেকে বাহারি শরবত, নলেন গুড়ের সন্দেশ থেকে চাইনিজ— নামজাদা সংস্থাগুলির অঢেল খাবারদাবারে মজেছিলেন মেলায় আসা প্রায় সব দর্শক। আর ছিল বিনোদন। শুরু হয়েছিল ‘চন্দ্রবিন্দু’র বন্ধুত্ব দিয়ে। ভিন দেশি তারাদের আপন করে নিয়ে তাঁরা শুনিয়েছিলেন তাঁদের নতুন অ্যালবাম ‘টালোবাসা’র গান। তারপর একে একে এসেছেন সায়নী পালিতরা। মেলার মাঠ ও মন দখল করেছেন রূপম ইসলামও।
মন বিনোদনে থাকলেও কৌতূহল ছিল কিন্তু ব্যবসাতেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নয়া প্রজন্মের উদ্যোগপতিদের নজর এখন স্টার্ট-আপেই। কিন্তু নতুন চিন্তাভাবনা ও আঙ্গিকের এই ব্যবসার দু’টি মূল চ্যালেঞ্জ। এক, নতুন উদ্যোগ আদৌ ক্রেতাদের পছন্দ হবে তো? দুই, ব্যবসার পুঁজি আসবে কোথা থেকে? এই দু’য়েরই জবাব দিয়েছে অভিনব মেলা। কীভাবে পুঁজি মেলে, কোন পথে এগলে বাজারমুখী হবে স্টার্ট আপ, তার তথ্য পেয়েছেন বহু বাঙালি। সফল ব্যবসায়ীরা যেমন তাঁদের ‘জার্নি’র ওঠাপড়া শেয়ার করেছেন, তেমনই একেবারে পেশাদার পরামর্শদাতা সংস্থা চিনিয়েছে এই দুনিয়ার হালহকিকত। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে তার যোগ্য সঙ্গত করেছে ‘বর্তমান’ও। যাঁরা পুরনো ধারা মেনে ক্ষুদ্র, ছোট বা মাঝারি শিল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাঁরাও যে শেয়ার বাজার থেকে নিজেদের পুঁজি সংগ্রহ করতে পারেন, তার সুলুকসন্ধানের ব্যবস্থা ছিল মেলায়। সর্বোপরি ছিল আত্মবিশ্বাসের অফুরান জোগান। আর একটা বেঙ্গল কেমিক্যাল কেন হবে না? কেন বাজার ধরবে না কোনও মার্গো সাবান? কে সি দাসের রসোগোল্লা যদি বিশ্বের দরবারে অস্তিত্ব জাহির করতে পারে, নয়া প্রজন্ম কেন নতুন আবিষ্কার নিয়ে আসর মাত করবে না? আশা জাগিয়েছে এই উদ্যোগ। আবার। বাঙালির নবজাগরণের। 
সম্পর্কিত সংবাদ