নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রকাশ্যে করা যাবে না ধূমপান। কিংবা ব্যবহার করা যাবে না অন্যান্য তামাকজাত পদার্থও। প্রায় ২৩ বছর আগেই এসংক্রান্ত আইন কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সিওটিপিএ, ২০০৩ - এর চার নং ধারা অনুসারে, প্রকাশ্যে, অর্থাৎ পাবলিক প্লেসে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইন থাকলেও তা কি আদতেই মানা হচ্ছে? এপ্রশ্ন উঠছে। কারণ সংসদে পেশ করা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এক পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়েছে যে, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করার জন্য লক্ষ লক্ষ চালান জারি করতে হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এর অর্থ একটিই। তা হল, শত আইন প্রণয়নেও বন্ধ করা যায়নি প্রকাশ্যে ধূমপান। এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এসংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন। তারই লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব যে খতিয়ান পেশ করেছেন, তাতে চমকে উঠছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ ওই খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে যে, শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে প্রকাশ্যে ধূমপান করার জন্য সারা দেশে মোট ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪৭৬টি চালান জারি করা হয়েছে। সবথেকে বেশি চালান ইস্যু হয়েছে কর্ণাটকে। ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪১টি। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ। যথাক্রমে ৯৯ হাজার ৭৮৯টি এবং ৫৫ হাজার ৮৫০টি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে ধূমপান করার জন্য চালান জারি হয়েছে মোট ১ হাজার ১৪৭টি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওই আর্থিক বছরে অসম, চণ্ডীগড়, মণিপুর, পুদুচেরি এবং তেলেঙ্গানায় প্রকাশ্যে ধূমপান করার অপরাধে কোনো চালান জারি করা হয়নি। সারা দেশেই এক্ষেত্রে জরিমানা বাবদ আদায় করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
প্রকাশ্যে ধূমপান করার অপরাধে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে সারা দেশে জরিমানা বাবদ আদায় করা হয়েছে মোট ৫ কোটি ১৯ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৫০ টাকা। ওই আইন অনুসারে প্রকাশ্যে ধূমপান করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।