সংবাদদাতা, করিমপুর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শিকারপুর কুঠিপাড়াতে গেট তৈরির আশ্বাসে খুশি গ্রামের মানুষ। তাদের দাবি মেনে সেখানে তৈরি নতুন কাঁটাতারের বেড়ার মাঝে একটি গেট করা হবে বলে জায়গা ফাঁকা রেখেছেন বিএসএফ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, এখানে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু মাথাভাঙা নদী ভারত-বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ করে। আশপাশের বাকি অংশে কাঁটাতারের বেড়া কুড়ি-বাইশ বছর আগে তৈরি হলেও জমি সমস্যার কারণে শিকারপুর কুঠিপাড়ায় প্রায় দেড় কিমি সীমান্তে এতদিন বেড়া দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি নদীয়ার মুরুটিয়ার শিকারপুর সীমান্তে ০.৯ একর জমি বিএসএফকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।শুরু হয়েছে শিকারপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ। কাজের শুরু থেকে নতুন তৈরি প্রায় দেড় কিলোমিটার এই বেড়ার মাঝে একটি গেট করার জন্য বিএসএফের কাছে দাবি জানিয়েছেন শিকারপুর কুঠিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় এবং প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে এখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশ সীমান্ত বাহিনী বা বিজিবির বাধায় বেড়ার নীচের কালভার্ট তৈরির কাজ বন্ধ ছিল। থমকে গিয়েছিল বেড়া দেওয়ার কাজ। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে যখন বেড়া দেওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে, তার মধ্যেই কিছুদিন আগে শিকারপুর সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা আরও জানান, এই গ্রামের প্রায় তিনশো পরিবারের সকলেই ব্রিটিশ আমল থেকে এই নদীতে স্নান করেন। গত চার বছর থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দেওয়া জল বন্ধ রয়েছে। চৈত্র, বৈশাখ মাসে বাড়ির টিউবওয়েলেও জল ওঠে না। ফলে বাড়ির জামা-কাপড় কাচা থেকে শুরু করে যাবতীয় জলের কাজ নদীতেই সারতে হয়। আচমকা বেড়া দেওয়ার ফলে নদীতে মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে এবং সকলেই খুব সমস্যায় পড়বেন। গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জু মণ্ডল, সুরজিৎমণ্ডল বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরুর সময় গ্রামের মানুষের নদীতে যাওয়ার জন্য গ্রামের মাঝে নির্দিষ্ট জায়গায় একটি গেট করা হবে বলে বিএসএফ জানিয়েছিল। কিন্তু আচমকা সেখানে বেড়ার লোহার খুঁটি দেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিলেন গ্রামের লোকজন। কারণ সর্বত্রই কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে সাধারণ মানুষের অনেক চাষের জমি রয়েছে। সেই জমিতে যাওয়ার জন্য গেট আছে এবং প্রতি গেটে বিএসএফ জওয়ানরা পাহারা দেন। পরিচয়পত্র জমা দিয়ে গেটের ওপারে যেতে হয় ভারতীয়দের।
Advertisement
বিএসএফের এক আধিকারিক জানান, সাধারণ মানুষের দাবি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে জানানো হয়েছিল। তাঁরা একটি গেট তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও করিমপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তাপস মণ্ডল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নতুন দেড় কিমি বেড়ায় দু’টি গেট করার কথা। শিকারপুর কুঠিপাড়াতেও একটি গেট করার জন্য বিএসএফ আধিকারিকের আশ্বাসে খুশি এলাকার মানুষ।



