Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্ত সংলগ্ন বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় জেলা প্রশাসন

সীমান্ত সংলগ্ন বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় জেলা প্রশাসন
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার সীমান্ত সংলগ্ন বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটার বৃদ্ধির হার বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।‌ করিমপুর, তেহট্ট, চাপড়া ও কৃষ্ণগঞ্জের মতো বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে। জেলাজুড়ে ইতিমধ্যেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ কড়াভাবেই করা হয়েছিল। আবেদনকারীদের সমস্ত নথিপত্র ভালো করে যাচাই করা হয়েছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সীমান্তের কেন্দ্রগুলিতে ভোটার বৃদ্ধির হার চিন্তায় ফেলেছে প্রশাসনকে। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত লাগোয়া তেহট্টে ২৩৫৫জন, করিমপুরে ১৭৭৯, চাপড়ায় ১৭১৫, কৃষ্ণগঞ্জে ১৭৫২, কৃষ্ণনগর উত্তরে ১৫৭২, রানাঘাট উত্তর পূর্বে ১৩৩১ জন ভোটার বেড়েছে। একটু দূরবর্তী রানাঘাট দক্ষিণে ১৩৮৯, কৃষ্ণনগর দক্ষিণে ২১২১ ও কালীগঞ্জে ২০৫৮ জন ভোটার বেড়েছে। যদিও নাকাশিপাড়ায় মাত্র ৩২৫ জন, নবদ্বীপে ৮২৫, চাকদহে ৫৮৩ জন ভোটার বেড়েছে। সীমান্ত থেকে দূরবর্তী একমাত্র শান্তিপুরে ১৭০০এর বেশি ভোটার বেড়েছে। দূরবর্তী বিধানসভার মধ্যে কোথাও কোথাও আবার ভোটার সংখ্যা কমেছে। যেমন, কল্যাণীতে ১৩৭৭ জন, হরিণঘাটায় ৯ জন এবং পলাশিপাড়ায় ১৩৯ জন ভোটার কমেছে। প্রশাসনের দাবি, অনেকেই ভিন জেলা থেকে এসে নদীয়া জেলার ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।‌
প্রসঙ্গত, নদীয়া জেলায় অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। সারাবছরই মাঝেমধ্যে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয় সীমান্তের থানাগুলিতে। বাংলাদেশের অচলাবস্থার পর অনুপ্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। হাঁসখালি, ধানতলা, কৃষ্ণগঞ্জ ও ভীমপুর থানা এলাকায় বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে শতাধিক অনুপ্রবেশকারী এবং দালাল পুলিসের হাতে‌ ধরা পড়েছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও এক অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়। 
যদিও অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশ ইস্যুর কারণে পুলিসি সক্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু বহু বছর ধরেই অবৈধ নথি ব্যবহার করে, কাঁটাতার পেরিয়ে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করছে অনেকেই। জমি কিনে তারাই এখন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। 
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলায় আধার জালিয়াতির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অতীতে একাধিক জায়গায় জাল নথি তৈরির চক্রের হদিশ মিলেছে। তারা অবৈধভাবে আধার কার্ড তৈরি করে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের। পুলিসের হাতে অনেক সময় তারা ধরাও পড়ছে। সাধারণত জাল নথি এতটাই নিখুঁত হয় যে তা চোখ এড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এতেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা আবেদনকারীদের নথিপত্র ঠিক আছে তো? 
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছিল। সম্প্রতি তারই ফার্স্ট সাপ্লিমেন্ট বেরিয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, তালিকায় প্রায় ৬২ হাজার নতুন ভোটার নাম তুলেছেন। বাদ পড়েছেন ৪২ হাজার ৭০৬জন ভোটার। অর্থাৎ নদীয়া জেলায় ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ হাজার ১২৫ জন। বর্তমানে জেলাতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪১ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৭৮ জন।
গতবছর লোকসভা নির্বাচনের আগেও ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ হয়েছিল। তখন দেখা যায়, অনেক আবেদনকারী খাতায় কলমে ভারতীয় হলেও তার বাবা কিংবা মায়ের ভোটার কার্ড নেই। অর্থাৎ আবেদনকারী ‘বাংলাদেশি’ বলেই অনুমান করা হয়েছিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ