Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্তে বেড়া দিতে ফের বাধা বিজিবির

সীমান্তে বেড়া দিতে ফের বাধা বিজিবির
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, মাথাভাঙা ও মেখলিগঞ্জ: ফের বিজিবির আপত্তি। একই সঙ্গে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও। এবার তা ফুৎকারে উড়িয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিল বিএসএফ। মঙ্গলবার ঘটনাটি মেখলিগঞ্জের সাবেক ছিটমহল জোত নিজ্জামায় ঘটে। এনিয়ে জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, এবার বিএসএফ জওয়ানরা যোগ্য জবাব দিয়েছেন। বাংলাদেশি গোরুপাচারকারী ও দুষ্কৃতীদের দাপট কিছুটা হলেও এখন নিয়ন্ত্রণ হবে। 
Advertisement
মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিস সুপার অনিমেষ রায় বলেন, ওই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছিল বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে বিএসএফ রয়েছে। গ্রামের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 
সাবেক ছিটমহল জোত নিজ্জামায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতী ও গোরুপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের। এজন্য গ্রামের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি বহুদিনের। গ্রামবাসীদের সেই দাবি মতো এদিন সকালে বাঁশ ও কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজে হাত দেয় বিএসএফ। এনিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আপত্তি তোলে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশিরাও ছিল। অভিযোগ, বিএসএফ জওয়ানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকী জওয়ানদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে হুমকি দেয় বিজিবি। তা গ্রাহ্য না করে জওয়ানরা বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করেন। বিএসএফ জওয়ানরা জানান, সীমান্তের জিরো লাইন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বেড়া দেওয়া হয়েছে। তাই বিজিবির আপত্তিতে কর্ণপাত করা হয়নি। 
কোচবিহার জেলার সাবেক ছিটমহল জোত নিজ্জামায় মেখলিগঞ্জ মহকুমার জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। এখানে প্রায় আড়াইশো জন বাস করেন। অধিকাংশ কৃষিজীবী। মরা শিউলি নদী বেষ্টিত এই গ্রামের পরই বাংলাদেশের ভূখণ্ড। এখানে সব্জি চাষের পাশাপাশি চা বাগান আছে। স্থানীয় বাসিন্দা অনিল বর্মন ও উকিল বর্মন বলেন, খেতের ফসলের উপর দিয়ে গোরু নিয়ে যায় পাচারকারীরা। প্রতিটি মরশুমেই এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাঁদের অভিযোগ, পাচারকারীদের মদত দিতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়া নিয়ে আপত্তি করেছিল বিজিবি। গ্রাম ও দেশ রক্ষায় সর্বদা জওয়ানদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। বেড়া দেওয়ায় এবার কিছুটা হলেও পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ হবে। 
প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি ও বাগডোগরা-ফুলকাডাবরি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে বিজিবি আপত্তি তোলে। তা উপেক্ষা করে সীমান্তে প্রায় দেড় কিমি এলাকায় বেড়া দেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা সেখানে আরও দেড় কিমি এলাকায় বেড়া দেওয়ার জন্য অর্থ জোগাড় করছেন। শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার বন্দরগছ ও মুড়িখাওয়া এলাকাতেও বেড়া দিতে উদ্যোগী বিএসএফ। ইতিমধ্যে বন্দরগছে খুঁটি পোঁতা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের আক্রমণের পর মাথাভাঙার বুড়াবুড়ি গ্রাম এখনও থমথমে। সেখানকার বাসিন্দারা কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের ভারতীয় জমিতে চাষাবাদ করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। 
 নিজস্ব চিত্র।
সম্পর্কিত সংবাদ