নয়াদিল্লি: ট্রেনের ইঞ্জিন ও কামরার মাঝে চিঁড়েচ্যাপ্টা রেলকর্মী। বিহারের বারাউনি জংশনের এই ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনায় আঁতকে উঠেছে দেশ। রেলের চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগে সরব বিরোধীরা। এরইমধ্যে ট্রেনের ইঞ্জিন ও কামরার মাঝের কাপলিং খোলার সময় এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দুই পয়েন্টসম্যানের সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করেছে রেল। সিটিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে মহম্মদ সুলেমান নামে পয়েন্টসম্যানকে দায়ী করা হয়েছে। শনিবার ৮ টা বেজে ১০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছয় লখনউ-বারাউনি এক্সপ্রেস। ইঞ্জিন খোলার জন্য পাঠানো হয় দুই পয়েন্টসম্যান সুলেমান ও অমর কুমারকে। তাঁদের মধ্যে কুমার ইঞ্জিন ও কামরার মাঝে পিষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি কাপলিং খোলার জন্য ইঞ্জিন ও কামরার মাঝে ঢোকেন। সেই সময়ই ইঞ্জিনটি পিছিয়ে আসে। ফলে মাঝখানে পিষে যান কুমার। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছেন রেলের পাঁচ আধিকারিক। তাঁদের স্বাক্ষরিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, লোকো পাইলট বা ট্রেনের চালককে ভুল সিগন্যাল দিয়েছিলেন সুলেমান।
Advertisement
প্রত্যক্ষদর্শীরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু কর করলে চালক ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যান বলে খবর। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক পর ইঞ্জিন ও কামরা সরিয়ে কুমারের দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত রেলকর্মীর পরিবার সুলেমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। যদিও সুলেমান লিখিত জবাবে দুর্ঘটনার জন্য লোকো পাইলটকে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি ও কুমার পাওয়ার কার থেকে ইঞ্জিন আলাদা করেছিলেন। এরফলে পাওয়ার কার থেকে ইঞ্জিন সামনের দিকে খানিকটা এগিয়ে যায়। এরইমধ্যে কুমার বাফার কাপলার বন্ধ করতে ভিতরে ঢুকেছিলেন। সেই সময় তিনি হাত দিয়ে কোনও সিগন্যাল দেওয়ার আগেই চালক ইঞ্জিন পিছিয়ে দেন। এরইমধ্যে রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার আরও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



