Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্মেলন বানচালের চেষ্টায় কেন্দ্র: মমতা

সম্মেলন বানচালের চেষ্টায় কেন্দ্র: মমতা
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাকে ভাতে মারতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ বন্ধেই থমকে থাকছে না মোদি সরকারের ভূমিকা! আরও একধাপ এগিয়ে এবার রাজ্যের শিল্প সম্মেলন ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। আজ, বুধবার দু’দিনের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন শুরু হচ্ছে রাজ্যে। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পাশাপশি, সায়েন্স সিটির বিপরীতে বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে চলবে প্রদর্শনী ও সেক্টরাল সেশন। আসছেন ৪০টি দেশের ২০০’র বেশি প্রতিনিধি। ‘পার্টনার কান্ট্রি’ ২০টি। থাকছেন ২৬টি দেশের রাষ্ট্রদূতও। নজরকাড়া ব্যক্তিত্বের মধ্যে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও থাকছেন। কিন্তু তিন মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথা দিয়েও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং টোবগের সম্মেলনে উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে মোদি সরকারের বিদেশ মন্ত্রক অনুমতি না দেওয়ায় তাঁর বাংলায় আসা অনিশ্চিত বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর। আর এই নিয়েই মঙ্গলবার নিউটাউনে শিল্প সম্মেলনের চা চক্রে যোগ দেওয়ার আগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কার্যত তোপ দাগলেন মমতা। কেন্দ্রের ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অক্টোবর মাসে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দেবেন। কিন্তু এখন আমি খবর পাচ্ছি যে, দিল্লিতে কিছু একটা হচ্ছে। ভুটানের সঙ্গে বাংলারও সীমান্ত রয়েছে। আমি চাই, রাজ্যের সঙ্গে ভুটানের সম্পর্ক আরও ভালো হোক। সেই কারণেই ওঁকে সম্মেলনে চেয়েছিলাম।’ যদিও রাজ্য প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও আশা ছাড়েনি বলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। 
Advertisement
তবে কেন্দ্রের হাজার চক্রান্তেও বাংলার শিল্প সম্মেলনের জৌলুস এক ইঞ্চি কমবে না বলেও প্রত্যয়ী মমতা এবং তাঁর প্রশাসন। কারণ, বাণিজ্য সম্মেলনের ইতিহাসে এবারই সবথেকে বেশি দেশের প্রতিনিধি রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাতে চলেছেন বলে খবর। মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দেবেন রিলায়েন্স গ্রুপের মুকেশ আম্বানি, জিন্দাল গ্রুপের সজ্জন জিন্দাল, আইটিসি’র সঞ্জীব পুরী থেকে শুরু করে ললিত সুরি হসপিটালিটি গ্রুপের জোৎস্না সুরিও। ফলে এরাজ্যে লগ্নি নিয়ে দেশের প্রথম সারির শিল্পপতিরা কী ঘোষণা করতে চলেছেন, নজর রয়েছে সেদিকেই। রাজ্যের এক আধিকারিক সাফ বলেন, ‘কেন্দ্রের প্যাঁচকে আমল না দিয়ে আগামী দু’দিন বাংলার দিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ।’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এবারের বাণিজ্য সম্মেলনেই সর্বাধিক ২০০’র কাছাকাছি মউ স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য ক্ষেত্র ছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পে বিনিয়োগ টানতে বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য। বিশেষ নীতি প্রণয়ন করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হাব গড়ে তোলার উদ্যোগও রয়েছে। বাণিজ্য সম্মেলনে কার কী দায়িত্ব, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের তা বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বীরবাহা হাঁসদা এবং জ্যোৎস্না মান্ডিকে মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলকে সময় মতো পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
শিল্প উৎসবের জন্য আলো ও ব্যানার দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা শহর। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মা ফ্লাইওভার, ইএম বাইপাসের পাশাপাশি শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে এদিন কলকাতা ট্রাফিক পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। শহরের প্রতিটি ট্রাফিক গার্ড থেকে দু’জন করে সার্জেন্টকে নিয়ে ৫০টি পাইলট টিম তৈরি হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ