Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমাজের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ, সংগঠনও তৈরি করলেন এস-৪৫ রুটের বাসযাত্রীরা

সমাজের পাশে দাঁড়াতে উদ্যোগ, সংগঠনও তৈরি করলেন এস-৪৫ রুটের বাসযাত্রীরা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই বাসে মোটামুটি একই সময়ে রোজ যাতায়াত। একে অপরের মুখচেনা। পরবর্তীকালে একটু আলাপ, যা ক্রমে গাঢ় হয়। পরিণত হয় ঘনিষ্ঠতায়। নিত্যযাত্রীদের এই রেওয়াজ নতুন নয়। এই পথচলতি ‘আত্মীয়তা’ আরও নিবিড় করেছে প্রযুক্তি। মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিজেদের মধ্যে যখনই চাইছেন আলাপ-আলোচনা সেরে নিচ্ছেন যাত্রীরা। কারও মেয়ে পরীক্ষায় প্রথম হল, দেওয়া হল গ্রুপে। কারও শাশুড়ি অসুস্থ। সে কারণে অফিস যাবেন না। দেখা হবে না সহযাত্রীদের সঙ্গে। গ্রুপে খবর দিলেন। এরকম সবখবর সর্বদা চটজলদি চলে আসছে গ্রুপে। কত নম্বর বাস কতটা লেট করছে, তারও খুঁটিনাটি আপডেট পেয়ে যাচ্ছেন সবাই। এবার শুধু এইটুকুতেই নিজেদের আটকে রাখছেন না এস-৪৫ নম্বর বাসের নিত্যযাত্রীরা। যখন তাঁরা রাস্তাতে একজোটই হচ্ছেন, তখন এমন কোনও কাজ করলে হয় না, যাতে খোশগল্পের পাশাপাশি সমাজের পাশেও দাঁড়ানো যায়? এই লক্ষ্যে এক দল নিত্যযাত্রী পথে নেমেছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কখনও তাঁরা শিশুদের পাশে আর্থিক সাহায্য নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে সাহায্য করছেন। আবার কখনও তাঁদের সাহচর্য পাচ্ছেন প্রবীণ নাগরিক থেকে বাস কর্মীরাও। যাত্রীদের ব্যক্তিগত এই উদ্যোগ অচিরেই আলোচনার চর্চায় চলে এসেছে। নিত্যযাত্রীদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই। সরশুনা শকুন্তলা পার্ক থেকে কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে সরকারি বাস এস-৪৫। এই রুটের যাত্রীরা দু’টি সংগঠন তৈরি করেছেন। একটি ‘এস-৪৫ প্যাসেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন’, অন্যটি ‘এস-৪৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। দু’টি সংগঠনেরই সভাপতি বিকাশ পালচৌধুরী নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বাসচালক, কন্ডাকটর, ডিপো কর্মীদের জন্য কোনও উদ্যোগ নিই, তখন প্যাসেঞ্জার্স অ্যা঩সোসিয়েশনের তরফে তা নেওয়া হয়। অন্যান্য সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে অপর সংগঠনটিকে সামনে আনা হয়। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চারশোরও বেশি যাত্রী এই সংগঠন দু’টিতে আছেন। বেশ কয়েকজন নিজেদের তহবিলে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা করেন। বাকিরা যখন যেমন পারেন, আর্থিক সহায়তা করেন। কোনও উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ কর্মীদের উপহার দেওয়া তাঁদের রেওয়াজ। এক সদস্যের কথায়, পুজোর আগে আমরা শৈশব নামে একটি সংস্থায় গিয়েছিলাম। যেখানে বসবাস করে বিশেষভাবে সক্ষম কয়েকজন ছোট ছেলেমেয়ে। তাদের জন্য উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম। অনেকটা সময় কাটিয়েছিলাম। আমাদের অফুরান আনন্দ দিয়েছিল বাচ্চাগুলো। এভাবেই বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের পাশেও থাকি আমরা। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্যও হরেক উদ্যোগ নেওয়া হয়। আসলে আমরা নিজেরাই এভাবে আনন্দ খুঁজে নিই। অন্য এক সদস্যের কথায়, আমরা যখন পরিবহণ কর্মীদের উপহার ঩দিই, তাঁরা বলেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে অনেক যাত্রীর সঙ্গে তাঁদের সখ্য হয়েছে। কিন্তু কারও তরফে কোনও উপহার পাওয়ার আনন্দ তাঁরা আগে পাননি। সদস্যরা এবার চান, তাঁদের কাজের পরিধি আরও বাড়ুক। বছরভর যাতায়াতের মাঝে বাসের খাঁচার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ুক ভালোবাসার আদানপ্রদান।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ