সংবাদদাতা, কাঁথি: মঙ্গলবার মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে মাতলেন দীঘা থেকে খেজুরি—প্রতিটি এলাকার মানুষ। এদিন সকাল থেকেই দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণি, শৌলা, বগুড়ানজালপাই, জুনপুট, হরিপুর, বাঁকিপুট, কানাইচট্টা, রসুলপুর, খেজুরির হিজলি মসনদ-ই-আলা, দক্ষিণ কলাগেছিয়া, মেহেদিনগর, পাঁচুড়িয়া, সর্বত্রই পুণ্যস্নানের জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। তাঁদের গন্তব্য ছিল উপকূলবর্তী এলাকা। তাঁরা পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে সমুদ্রের জলে ডুব দেন। সমুদ্রকে মা গঙ্গারূপে সমুদ্রতটে ধূপ-ধুনো দিয়ে পুজোও করেন মহিলারা। আর পৌষের শেষে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে প্রতিটি জায়গায় গঙ্গোৎসব ও মেলা বসেছে। যা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বড় উৎসব। কোথাও চারদিন, কোথাও ছ’ দিনের মেলা বসেছে। এদিন সকালে জুনপুটে গঙ্গামেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আমিন সোহেল সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে মেলা কমিটির তরফে শতাধিক দুঃস্থ মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। শৌলায় গঙ্গোৎসবের উদ্বোধনে কাঁথির সাংসদ সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রক্তদান শিবির সহ অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বগুড়ানজালপাইতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের উদ্যোগে গঙ্গোৎসব উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। সোমবার থেকেই দীঘা ও শঙ্করপুরে প্রাঙ্গণে গঙ্গোৎসব ও নানা অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে চলছে। প্রতিটি জায়গায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড়ে কার্যত তিলধারণের জায়গা ছিল না। পটাশপুরের গোকুলপুর এলাকায় কেলেঘাই নদীর তীরে তুলসীচারা এলাকায় গোকুলানন্দ জিউয়ের বহু প্রাচীন মেলা বসেছে। এদিন কেলেঘাই নদীতে হাজার হাজার মানুষ পুণ্যস্নান সারেন এবং সংলগ্ন মন্দিরে পুজো দেন। প্রতিটি জায়গায় ভিড় ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিস বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উপকূল এলাকার থানাগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) আবু নুর হোসেন বলেন, সর্বত্র পুলিস, সিভিক ভলান্টিয়ার, মহিলা পুলিস মোতায়েন রয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। কোথাও কিছু অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করবে পুলিস।



