নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে কোটি কোটি টাকা অনাদায়ী পড়ে রয়েছে। বিপুল পরিমাণ টাকা যাঁরা শোধ করছেন না, তাঁদের একটা বড় অংশ সরকারি কর্মচারী ও স্কুলশিক্ষক। অধিকাংশ সমবায় ব্যাঙ্কে এই ধরনের অনাদায়ী ঋণের অঙ্ক দেখে সরকারের পদস্থ কর্তাদের কার্যত চক্ষু চড়কগাছ। এই টাকা দ্রুত আদায় না হলে সমবায় ব্যাঙ্কগুলির আধুনিকীকরণ ও পুনরুজ্জীবন নিয়ে যে পরিকল্পনা দপ্তর করেছে, তা বাস্তবায়িত হওয়া কঠিন। উল্টে সমবায়গুলি ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে পারে। তাই সরকারি কর্মচারী ও স্কুলশিক্ষকদের থেকে টাকা পুনরুদ্ধারে বিশেষ অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের। এই ব্যাপারে কাজ কতটা এগচ্ছে, সে বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন তিনি।
Advertisement
সমবায় ব্যাঙ্কগুলি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে শুক্রবার প্রত্যেক জেলাশাসককে ছ’দফা নির্দেশিকা সহ চিঠি পাঠিয়েছে দপ্তর। সেখানেই সরকারি কর্মী এবং স্কুলশিক্ষকদের থেকে ঋণের অনাদায়ী অংশ উদ্ধারের জন্য জেলাশাসকদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কো-অপারেটিভ সোসাইটির ইনসপেক্টরদের যথাযথ কাজে লাগানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসে রাজ্যের কাছে। সংশ্লিষ্ট বিডিওরা যাতে সমবায় সংক্রান্ত কাজেই তাঁদের ব্যবহার করেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে জেলাশাসকদের। এর পাশাপশি সমবায়গুলিকে আরও সচল ও জনমুখী করতে নিয়মিত ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কমিটির বৈঠক ডাকতে হবে জেলাশাসককে। ধান কেনা থেকে শুরু করে আলু, পেঁয়াজ গুদামজাত করার মতো কাজে সমবায়গুলির যাতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় একজন করে এডিএম-কে সমবায়ের কাজে নিযুক্ত করতে হবে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। ওই এডিএম তাঁর জেলার সমবায় সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্মে নজরদারি, পর্যালোচনা ও জেলাশাসকের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন। জেলাগুলিকে এডিএম-এর নাম ও ফোন নম্বরও দ্রুত সমবায় দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যক মাসে সমবায়ের সমস্যা নিয়ে জেলাস্তরে অন্তত একটি বৈঠক করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে সমবায় ব্যাঙ্কগুলি চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্রেই তিনি রাজ্যের সমবায় ব্যঙ্কগুলিতে ভুয়ো অ্যকাউন্টে পড়ে থাকা কোটি কোটি ‘কালেো’ টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই গত ২২ মাসে একলপ্তে বড়সড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চেয়ে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ পাঠিয়েছে দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের আগে, ১৯ ডিসেম্বর মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বাধীন স্টেট কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কমিটির বৈঠক হয়। এই দুই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা তৃণমূল স্তরে রূপায়ণের লক্ষ্যেই জেলাশাসকদের এই ছ’দফা নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকে সমবায় ব্যাঙ্কগুলি চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্রেই তিনি রাজ্যের সমবায় ব্যঙ্কগুলিতে ভুয়ো অ্যকাউন্টে পড়ে থাকা কোটি কোটি ‘কালেো’ টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই গত ২২ মাসে একলপ্তে বড়সড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চেয়ে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ পাঠিয়েছে দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের আগে, ১৯ ডিসেম্বর মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বাধীন স্টেট কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কমিটির বৈঠক হয়। এই দুই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা তৃণমূল স্তরে রূপায়ণের লক্ষ্যেই জেলাশাসকদের এই ছ’দফা নির্দেশ বলে জানা গিয়েছে।



