সম্ভল: মুঘল জমানার মসজিদে সমীক্ষা ঘিরে সংঘর্ষ। যোগীরাজ্যের সম্ভলে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার। সম্ভলের পরিস্থিতি সোমবারও ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। এদিন জেলার সমস্ত স্কুল বন্ধ ছিল। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় বহিরাগতদের প্রবেশে ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনায় বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। তারা আরএসএস ও বিজেপির যৌথ ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছে। এরইমধ্যে হিংসায় মদতের অভিযোগে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি (সপা) সাংসদ জিয়াউর রহমান বরক ও বিধায়ক ইকবাল মাহমুদের ছেলে সোহেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিস। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সপা সাংসদ। রহমান বলেছেন, ‘ঘটনার দিন আমি সম্ভলেই ছিলাম না। পুলিস ও প্রশাসন ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসিয়েছে।’ উল্টে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য কর্তব্যরত পুলিসকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব ঘটনার জন্য আরএসএস ও বিজেপির যৌথ ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। বিজেপির পাল্টা তোপ, লোকসভা ভোটে ইন্ডিয়া জোট ব্যর্থ হওয়ার জেরে হিংসা ছড়াচ্ছে। এই ঘটনায় যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরিই বিজেপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশ কিংবা রাজ্য নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করা উচিত।’ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন রায়বেরিলির সাংসদ। আদালতের নির্দেশে রবিবার দ্বিতীয় দফায় সমীক্ষার জন্য সরকারি আধিকারিকরা সম্ভলের শাহি জামা মসজিদে গেলে অশান্তি শুরু হয়। পুলিস ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। মৃত্যু হয় তিনজনের। এদিন হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।



