নয়াদিল্লি: সবরমতী থেকে গুরুগ্রাম যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে বাড়ির দুই খুদে সদস্য। তাই কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাননি কত্তা মশাই। গোঁফে তা দিয়ে গিন্নিকে বলেছিলেন - বন্দে ভারতে টিকিট বুক করেছি। তুমি শুধু এসিতে নিশ্চিন্তে একঘুম দিও। ততক্ষণে আমরা গন্তব্যে পৌঁছে যাব। কিন্তু ভেস্তে গেল সব প্ল্যান। স্টেশনে নামতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগল। সমানে দাঁত খিঁচিয়ে চলেছেন গিন্নি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছোট্ট ছেলের হাত ধরে হনহন করে এগিয়ে চলেছেন মাঝবয়সি ভদ্রলোক। বিড়ম্বনার নেপথ্যে ভারতীয় রেল। ভুল করে বন্দে ভারতের ‘ভুল’ রেক নির্বাচন করা হয়েছিল। ওই রেকে ছোটো প্যান্টোগ্রাফ থাকায় নির্ধারিত রুটের বদলে বাড়তি ৫০০ কিলোমিটার ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছয় ট্রেনটি। ১৫ ঘণ্টার জায়গায় সময় লেগেছে প্রায় ২৮ ঘণ্টা। বন্দে ভারত নিয়ে মোদি সরকারের ঢাক পেটানোতে কোনও বিরাম নেই। এরইমাঝে রেলের তরফে এমন মারাত্মক ভুলে চারদিকে ছি ছি রব। যদিও ভুলের জেরেই হল নয়া ‘রেকর্ড’। বন্দে ভারতের ইতিহাসে এপর্যন্ত এটাই দীর্ঘতম যাত্রা।
সবরমতী-গুরুগ্রাম বন্দে ভারত স্পেশাল। ট্রেন নম্বর ০৯৪০১। নির্ধারিত রুটে ৮৯৮ কিলোমিটার যাত্রা সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা। ৫ অক্টোবর সময়মতো ট্রেন ছেড়েছিল। প্রায় ৬০ কিলোমিটার যাত্রার পর গুজরাতের মেহসানার কাছে ট্রেন হঠাৎই থেমে যায়। কারণ বন্দেভারতে যে রেকটি নির্বাচন করা হয়েছিল,তার প্যান্টোগ্রাফটি ছোটো। সাধারণত সবরমতী-আজমির-জয়পুর রুটে (রেলের পশ্চিম জোন) যে ট্রেনগুলি চলে, তাদের প্যান্টোগ্রাফ বড়ো হয়। ডাবল স্টেক কন্টেনার মালগাড়ির কথা ভেবেই বিশেষ বিশেষ রুটে ভারতীয় রেলের এই পরিকাঠামো। এই প্যান্টোগ্রাফই ওভারহেড পাওয়ার লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং ট্রেনটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সাধারণত ট্রেনের ছাদ থেকে ৫.৫ মিটার উপরে থাকে ওভারহেড তারগুলি। কিন্তু এই রুটে ৭.৪৫ মিটার উপরে ছিল ওভারহেড তার। ছোটো হওয়ায় প্যান্টোগ্রাফ ওভারহেড ছুঁতে পারেনি। ফলে গড়ায়নি ট্রেনের চাকাও। অগত্যা আমেদাবাদ-উদয়পুর-কোটা-মথুরা হয়ে বাড়তি ৫০০ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। ৮৯৮ কিমির বদলে মোট ১৪০০ কিমি যেতে হয়। ১৫ ঘণ্টার জায়গায় সময় লাগে ২৮ ঘণ্টা।
ইতিমধ্যেই ভুল স্বীকার করেছেন রেলের আধিকারিক। মিলেছে ‘আর হবে না’র আশ্বাসবার্তাও। যদিও সমালোচকদের কথায়, আশ্বাসই সার। আমজনতার হেনস্তার দিকে কারও নজর পড়ে না।