সংবাদদাতা, করিমপুর: সোনার গয়নার বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে শাঁখার ব্যবসাতেও। দুর্গাপুজোর আর মাত্র দু’মাস বাকি থাকলেও মুরুটিয়ার বালিয়াডাঙা ও শঙ্খনগর গ্রামের শাঁখা ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা নেই। ফলে পুজোর মরসুমে ভাল ব্যবসার আশায় থাকা ব্যবসায়ী ও কারিগরদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম দুশ্চিন্তা। জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী ওই দুই গ্রামের প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০০ জন কারিগর শঙ্খ ও শাঁখা কাটার কাজ করেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার পরিবারের রুজি-রোজগার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। বালিয়াডাঙা ও শঙ্খনগরে তৈরি শাঁখার চাহিদা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অসম ও ত্রিপুরাতেও রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজো ও ধনতেরাসের সময় শাঁখার বিক্রি বেড়ে যায়। তাই পুজোর আগে সরবরাহের জন্য প্রতিবছর জুলাই-আগস্ট মাস থেকেই রাতদিন কাজ করেন কারিগররা। তবে চলতি বছরে সেই ব্যস্ততা কম। স্থানীয় ব্যবসায়ী অরূপ পাল বলেন, সোনার সঙ্গে শাঁখার ব্যবসার একটা সম্পর্ক রয়েছে। দামি শাঁখায় সোনা বাঁধিয়ে মহিলারা ব্যবহার করেন। সোনার দাম কমলে বা সোনার বিক্রি বাড়লে শাঁখার চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু এ বছর সোনার বিক্রি অর্ধেকেরও কম হওয়ায় শাঁখার বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। আর এক ব্যবসায়ীর দাবি, কয়েক মাস আগে দেশের প্রধানমন্ত্রীর তরফে সোনা কেনার বিষয়ে সতর্ক করার পর থেকেই সোনার বিক্রি কমেছে। তার প্রভাব পড়েছে শাঁখার ব্যবসায়ও। তারা জানান, ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দামের তুলনামূলক কম দামি শাঁখার কিছুটা বিক্রি থাকলেও ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকা দামের শাঁখার চাহিদা নেই। ফলে কারিগরদের মজুরি দিয়ে কম দামি শাঁখা তৈরি করে ব্যবসায়ীদের লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শাঁখা কারিগর বংশীবদন পাল বলেন, ২০১৬ সালের নোটবন্দি এবং ২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে বাজেটে সোনার দাম কিছুটা কমায় ভাল ব্যবসা হয়েছিল। কিন্তু এ বার ফের বাজারে মন্দা। ব্যবসায়ী ও কারিগর সবাইকে অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। স্থানীয় কারিগর প্রসেঞ্জিত ঘোষ বলেন, বালিয়াডাঙা ও শঙ্খনগরে তৈরি শাঁখা ও শঙ্খ কলকাতা, হুগলি, মালদহ, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রাজ্যের বাইরে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির কাছে পুজোর মরসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী শ্যাম দাস বৈরাগ্য বলেন, আগে শ্রীলঙ্কা বা চেন্নাই থেকে সরাসরি কাঁচামাল আসত। কম দামে ভাল মানের শঙ্খ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন চেন্নাই থেকে বেশিরভাগ শঙ্খ নিতে হয়। তাতে কাঁচামালের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পুজোর মরসুম সামনে থাকলেও শাঁখার বাজারে এখনও সেই চেনা ব্যস্ততা না ফেরায় কাঁচামাল, উৎপাদন এবং বিক্রি এই তিন দিক নিয়েই চিন্তায় মুরুটিয়ার এই দুই গ্রামের ব্যবসায়ী ও কারিগররা।



