


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার ছিল হনুমান জয়ন্তী। আর এই দিনটিকেই মনোনয়নের জন্য বেছে নিল তৃণমূল ও বিজেপি। মনোনয়ন ঘিরে কার্যত ‘শক্তি’ প্রদর্শন করল তৃণমূল ও বিজেপি। তারমধ্যেই বিক্ষিপ্তভাবে দেখা গেল স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা।
মালদহের চাঁচলে মনোনয়নের মিছিলে বিজেপি ও তৃণমূলের স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। চাঁচল মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে রীতিমতো বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহকুমা শাসক সোমনাথ সাহার নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিন হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর ও রতুয়া বিধানসভার বিজেপি ও তৃণমূলের ছ’জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা হয়। মালতীপুরের তৃণমূল প্রার্থী রহিম বক্সি অফিসে ঢোকার পরেই হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের সমর্থনে কর্মীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল করে আসেন। মালতীপুর বিধানসভার চন্দ্রপাড়া অঞ্চল তৃণমূল কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর অভিযোগ, মিছিল থেকে বেরিয়ে বিজেপি কর্মীরা তেড়ে আসছিল। আমাদের লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। পাল্টা আমরাও জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছি।
উত্তর মালদহের বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল পাল্টা বলেন, আমাদের প্রার্থী অসংখ্য কর্মী-সমর্থক নিয়ে মনোনয়নে হাজির হয়েছিলেন। এটা তৃণমূলের সহ্য হয়নি। মনোনয়ন প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল কর্মীরা।
এদিন প্রথমে সাহাপুর এলাকায় জমায়েত হয় তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম সমর্থকেরা। সেখান থেকে মিছিল করে মনোনয়ন পত্র জমা করতে যান দলের প্রার্থীরা। হঠাৎ রাস্তায় তৃণমূল সমর্থকদের মিছিল দেখে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করে বিজেপি সমর্থকরা। পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান তুলে ফেটে পড়েন তৃণমূল সমর্থকরাও। তবে, দ্রুত পরিস্তিতি সামাল দেয় পুলিশ।
এদিন, মালদহ প্রশাসনের কার্যালয়ে জেলা সদর মহকুমার ইংলিশবাজার, গাজোল, সুজাপুর, মানিকচক, হবিবপুরের তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, বিজেপির ৮ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়ন দেন বলে উত্তর মালদহের বিজেপির সভাপতি প্রতাপ সিং জানিয়েছেন। হবিবপুর এবং মালদহ বিধানসভা বিজেপির প্রার্থী সহ কর্মীরা মনোনয়ন জমা দিতে যান পুরাতন মালদহের সাহাপুর সেতু মোড় দিয়ে। সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মীদের মধ্যে বচসা হয়। বালুরঘাটে সকাল থেকেই দুই দলের প্রার্থীদের কাউকে দেখা গেল ঐতিহ্যবাহী বোল্লা কালী মন্দিরে। আবার কেউ গেলেন বুড়া কালী মন্দিরে। পুজো দিয়ে মনোনয়ন দিতে বেরিয়ে পড়লেন প্রার্থীরা। বালুরঘাট শহরে তিনদিক দিয়ে তৃণমূলের তিন প্রার্থীর মিছিল এসে পৌঁছয় জেলা প্রশাসনিক ভবনে। এদিকে বিজেপির প্রার্থীরা আগেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে মিছিলে যোগ দেন।
বালুরঘাটের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ সকালে বোল্লাকালী মন্দিরের পুজো দেন। শহরের আর্য সমিতি থেকে মিছিল শুরু করে জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছন তাঁরা। মিছিলে অর্পিতার সঙ্গে হাঁটেন প্রাক্তন প্রাক্তন মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী, বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা, টাউন সভাপতি সুভাষ চাকি সহ অন্যরা।
এদিকে তপনের তৃণমূলের প্রার্থী চিন্তামণি বিহাও বালুরঘাটের রেল স্টেশন এলাকা থেকে মিছিল করে শহরে ঘুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনের মনোনয়ন দেন। দুই প্রার্থীর মনোনয়নে জাঁকজমক থাকলেও কুমারগঞ্জ বিধানসভা দূরে হওয়ায় অল্প কর্মী নিয়ে মিছিল করে বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের মনোনয়ন পত্র জমা দেন তোরাফ হোসেন মণ্ডল।
এদিকে বিজেপির বালুরঘাটের প্রার্থী বিদ্যুৎ রায় তপনের বুধরাই টুডু, কুমারগঞ্জের শুভেন্দু সরকার এবং গঙ্গারামপুরের প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায় সকাল সকাল মনোনয়ন জমা দেন। দুপুরে বালুরঘাটের হিলি মোড় থেকে মহামিছিল শুরু করেন তাঁরা। প্রার্থীদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।
হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমান চাঁচল মহকুমা দপ্তরে মনোনয়ন জমা করেন তিনি। তুলসিহাটা ভবানীপুর ব্রিজ থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে গাড়ি করে চাঁচলে পৌঁছান মতিবুর। সুকান্ত মোড় থেকে মিছিল করে চাঁচল মহকুমা দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের দুই সদস্য বুলবুল খান ও মর্জিনা খাতুন এবং জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান সহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।