Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সালানপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে সিলিকোসিস বিষ এবার মিলল রানিগঞ্জ, জামুড়িয়ায়

সালানপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে সিলিকোসিস বিষ এবার মিলল রানিগঞ্জ, জামুড়িয়ায়
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সিলিকোসিস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে শিল্পাঞ্চলে। সালানপুর ব্লকেই পাঁচজনের সিলিকোসিস ধরা পড়েছিল। এবার সন্দেহভাজন সিলিকোসিস রোগী পাওয়া গিয়েছে রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর ও জামুড়িয়া শিল্পতালুকেও। বুধবার আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বসেছিল সিলিকোসিসের মেডিক্যাল বোর্ড। সেখানেই সন্দেহভাজন সিলিকোসিস রোগীদের বুকের এক্সরে সহ নানা রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা শুরু করেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানেই আরও ছ’জনের শরীরে সিলিকোসিস পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে চিকিৎসক মহলের দাবি। তাঁদের পালমুনারি লাং টেস্ট ও সিটিস্ক্যান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের আশঙ্কা, সিলিকোসিসের মতো মারণ রোগ শুধু আর সালানপুরে সীমাবন্ধ নেই তা ছড়িয়ে পড়েছে জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জেও। 
Advertisement
বুধবারই এডিডিএ কনফারেন্স হলে জেলাশাসক স্পঞ্জ আয়রন, রিফ্যাক্টরি ইউনিট সহ বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ক্র্যাশার, স্পঞ্জ আয়রন থেকে কীভাবে সিলিকোসিস ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে ওয়ার্কশপ করানো হয়। উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি, ইস্কো, ডিভিসির আধিকারিকরাও। বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা কারখানা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেন, নিয়ম মেনে কারখানা চালাতে হবে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, সিলিকোসিস আটকাতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে কী কী করণীয়, তা ওয়ার্কশপ করে বোঝানো হয়েছে। প্রতিটি সংস্থাকেই কঠোরভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়ম মানতে হবে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জ শিল্পতালুকের কর্মরত শ্রমিকের দেহেও সিলিকোসিসি রোগের সন্ধান মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তাঁদের আরও কয়েকটি পরীক্ষা করাব।
সিলিকোসিসি আক্রান্ত হলে রোগ নিরাময়ের এখনও কোনও রাস্তা নেই। তাই আক্রান্ত রোগীর পুরো পরিবারের দায়িত্বই কার্যত কাঁধে তুলে নিতে হয় রাজ্য সরকারকে। অত্যন্ত উদ্বেগজনক এই রোগই শিল্পাঞ্চলের ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলছে। মূলত শ্বাসনালির মাধ্যমে সিলিকা গুড়ো ফুসফুসে প্রবেশ করলে এই রোগে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ক্র্যাশারে কাজ করা শ্রমিক, রিফ্যাক্টরি কারখানা, স্পঞ্জ আয়রনগুলিতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষগুলি শ্রম ও স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশিকা না মেনে কারখানা চালায়। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে তারা কোন ভ্রুক্ষেপ করে না। এর জেরেই এই দশা। প্রথমে সিলিকোসিস ধরা পড়ে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া শিল্পতালুকে। সিলিকোসিসে রোগী মত্যুর ঘটনায় টনক নড়ে প্রশাসনের। শেষবার সিলিকোসিস নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে জেলায় সিলিকোসিস রোগীর সংখ্যার ছিল পাঁচ। তারপরও বহু সন্দেহভাজন রোগীর হদিশ মেলায় ফের এদিন বোর্ড বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্যদপ্তর। এদিন কোনও রোগী বোর্ডের সামনে হাজির না হলেও তাঁদের নথি পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই ছ’জনের সিলিকোসিস হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। 
জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জ শিল্পাতালুকের দূষণ নিয়ে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে গেলেই দেখা যায়, ব্যাপক দূষণ ছড়াচ্ছে কারখানাগুলি। বড় কারখানার পাশাপাশি ছোট ছোট শিল্প সংস্থার ‌ইউনিট গুলিও দূষণ বিধি মানছে না। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস দশা। এবার তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়লে সিলিকোসিসি দরজায় কড়া নাড়ায়।  
বিজেপি জেলা সম্পাদক তথা বোর্ড মিটিংয়ের উপস্থিত অরিজিৎ রায় বলেন, সিলিকোসিস নিয়ে জেলায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি রয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ